টাইগারদের বিপক্ষে অজিদের শক্তিশালী দল

টাইগারদের বিপক্ষে অজিদের শক্তিশালী দল

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজকে সামনে রেখে পূর্ণশক্তির দল সাজিয়েছে অজিরা। বিপরীতে একাধিক টাইগার ক্রিকেটারের চোট নিয়ে চিন্তায় বাংলাদেশ শিবির। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রায় এক বছর পর প্রথমবারের মতো পূর্ণশক্তির টেস্ট দল নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে অজিরা। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন। হ্যামস্ট্রিং সারিয়ে ওঠার সময় অ্যাকিলিসে চোট পেয়ে পুরো অ্যাশেজ মিস করেছিলেন হ্যাজলউড। আর অ্যাডিলেড টেস্টে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে অস্ত্রোপচার করাতে হয় লায়নকে। কামিন্সও পিঠের চোটের কারণে অ্যাশেজের পর দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন।

কামিন্স-হ্যাজলউড-লায়ন ফেরায় দল থেকে বাদ পড়েছেন মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেট। অ্যাশেজে দারুণ পারফরম্যান্স করা সত্ত্বেও জায়গা হয়নি নেসারের। পেস আক্রমণে কামিন্স-হ্যাজলউডের সঙ্গে আছেন মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ডও। অতীতে এই ‘বিগ থ্রি’ পেসার একসঙ্গে খেললে প্রায়ই একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে বোল্যান্ডকে। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটির প্রধান জর্জ বেইলি বলেন, ‘কামিন্স, হ্যাজলউড ও লায়ন গত কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিগতভাবে এবং স্পোর্টস সায়েন্স দলের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করেছে চোট থেকে ফিরতে। ১৩ সদস্যের স্কোয়াড হলেও প্রয়োজনে পরিবর্তনের জন্য আরও খেলোয়াড় প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ১২ মাসের ব্যস্ত সূচিতে অনেক ক্রিকেটারই সব ফরম্যাটে সুযোগ পাবে।’ দীর্ঘদিনের ওপেনার উসমান খাজা অবসর নেয়ায় তার জায়গা নিয়েও আলোচনা আছে। জেক ওয়েদারাল্ডকে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেনিংয়ে রাখা হয়েছে, আর ছন্দে না থাকলেও দলে জায়গা ধরে রেখেছেন মারনাস লাবুশেন। মিডল অর্ডারে ক্যামেরন গ্রিন, বিউ ওয়েবস্টার ও জশ ইংলিসের মধ্যে যেকোনো একজন সুযোগ পেতে পারেন।

অন্যদিকে এই ঐতিহাসিক সফরের আগে টাইগার শিবিরে রয়েছে চোট জটিলতা। আগামী ১লা আগস্ট অস্ট্রেলিয়া সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল। এ সফরের দল ঘোষণায় কিছুটা ধীরনীতি অবলম্বন করছে ক্রিকেট বোর্ড। পেসার নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসের চোট নিয়ে চিন্তিত বিসিবি। জিম্বাবুয়ে সফরে সাইড স্ট্রেইনে পড়েন নাহিদ রানা, আর পাঁজরের চোটে ভুগছেন লিটন। যে কারণে সিরিজের শুরুর দিকে তাদের খেলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। শরিফুল আছেন পুর্নবাসনে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আসেন বাহাতি এ পেসার। দলের বর্তমান অবস্থা ও স্কোয়াড ঘোষণা প্রসঙ্গে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ আগস্টের ১ তারিখেই যাচ্ছে। ওরা আগে জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরুক, প্র্যাকটিস শুরু হোক। এরপর দল ঘোষণা হবে। কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট সমস্যা আছে। সে কারণেই দল দিতে কিছুটা সময় নেয়া হচ্ছে। আশা করছি ফিজিও আসার পর উনার কাছ থেকে রিপোর্ট এবং ইনজুরি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর আমরা দল ঘোষণা করবো।’ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দল ঘোষণার আশা প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচক।

কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সিরিজ শুরুর আগে আগামী ৬ই আগস্ট থেকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ই আগস্ট ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু ২২শে আগস্ট ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০০৩ সালের পর এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ। এ সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। আট ম্যাচে সাত জয়ে তাদের পয়েন্ট ৮৭.৫০। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের সুবাদে টেবিলের চার নম্বরে বাংলাদেশ। চোট জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে এই সফর টাইগারদের জন্য হতে পারে চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় আরও এগিয়ে যাওয়ার এক বড় সুযোগ।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মারনাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেক ওয়েদারাল্ড ও বিউ ওয়েবস্টার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন