পাকিস্তান সফরে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তান সফরে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সোমবার সরকারি সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। এ সময় পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম এবং পাকিস্তানের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। তালাল চৌধুরী অতিথিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। মোমেনিকে স্বাগত জানিয়ে নাকভি বলেন, পাকিস্তানে আপনাকে স্বাগতম।

ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের গভর্নর-জেনারেল, দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নগর উন্নয়ন ও পরিবহনবিষয়ক উপমন্ত্রী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান, কৃষিমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পাকিস্তানে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোমেনি বলেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেয়া।

তিনি জানান, দুই দেশ আগে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তার ভাষ্য, বর্তমানে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সীমান্তের দুই পাশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। মোমেনি বলেন, ১০০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য অর্জনের জন্য প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ট্রাক চলাচল বা সমপরিমাণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক চলাচলের মাত্র ২০ শতাংশ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সফরকালে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

পরে ইসলামাবাদে মোহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করেন মোমেনি। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মোমেনি নাকভিকে নিজের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন এবং আবার দেখা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ককে অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন এবং পাকিস্তান সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার আমি সব সময়ই প্রশংসা করেছি। নাকভি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।

সফরকালে মোমেনির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দুই দেশের মধ্যকার নাজুক অন্তর্বর্তী সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পরও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন