আজ ১৪৪৭ হিজরির মাহে রমজানের নবম দিন। আজ শুক্রবার যাকে আমরা জুমাবার বলে থাকি। রমজান মাসের দ্বিতীয় জুমা আজ। মুসলিম উম্মাহর কাছে একটি কাক্সিক্ষত দিনের নাম হলো জুমাবার। এ দিনটির ব্যাপারে রাসূল সা. একটি হাদিসে বলেছেন, মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন।-ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১০৯৮
দুনিয়া সৃষ্টি করা হয়েছে জুমাবারে, কিয়ামতও হবে এদিনে। যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, ওই দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। ওই দিন হযরত আদমকে আ. সৃষ্টি করা হয়েছে। ওই দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং ওই দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়। আর ওই দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।-মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৮৫৪
জুমার দিন আজানের পর বেচাকেনা বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহতাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আজান হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম। যদি তোমরা উপলব্ধি করো।’-সূরা জুমা, আয়াত নং-৯। উক্ত আয়াতে জুমার আজানের পর বেচাকেনা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এজন্য জুমার আজানের পর ক্রয়-বিক্রয় করা নাজায়েয বলে মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যের আলেমরা। সৌদি আরবসহ আবর দেশগুলোতে জুমার আজানের সঙ্গে সঙ্গে বেচা- কেনাসহ সব কাজ বন্ধ করে মুসল্লিরা মসজিদের দিকে ছুটতে থাকেন। কিন্তু পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই এটি দেখা যায় না।
এ প্রসঙ্গে ফিকাহবিদদের কেউ কেউ এই নিষেধাজ্ঞার দ্বারা জুমার দ্বিতীয় আজানকে উদ্দেশ্য করেছেন। যদিও আয়াত নাজিল হয়েছিল রাসূলের ওপর। তখন জুমার দ্বিতীয় আজানের প্রচলনই শুরু হয়নি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা.-এর শাসনামলে জুমার সানি বা দ্বিতীয় আজানের প্রচলন হয়। ফকিহদের মতে, জুমার আজান হওয়ার পরও মুসলিমরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানাবিধ কাজে ব্যস্ত থাকায় ওমর রা. সানি আজানের প্রচলন করেন। এরপর আর কোনো বেচাকেনা বা কোনো কাজ জায়েজ নয়।
নির্ভরযোগ্য তাফসিরবিদ ও ফিকহবিদদের মতানুযায়ী, প্রথম আজানের পর জুমার প্রস্তুতিমূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া উক্ত আয়াতের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। অতএব তা নাজায়েজ। (তথ্যসূত্র: মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৪/১২০; মুসান্নাফ আবদুর রাজজাক: ৩/২০৫; আদ্দুররুল মানছুর: ২/২১৯; আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ৬/২১; বয়ানুল কোরআন: ৩/৫৪৭; তাফসিরে মাজহারি: ১০/২৮১; তাফসিরে শায়খুল হিন্দ পৃ-৭১৮; আহকামুল কোরআন, ইমাম ইসমাঈল ইবনে ইসহাক: ২৮৬; রদ্দুল মুহতার: ২/১৬১; আততাসহিহ ওয়াত তারজিহ: ১৮৫; ইলাউস সুনান: ৮/৮৬; ফতোয়ায়ে উসমানি: ১/৫৭৯)
জুমার গুরুত্ব আল্লাহতাআলার কাছে এত বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। এছাড়াও এই দিনের রয়েছে অসীম ফজিলত।
রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করো, কেননা, তোমাদের পাঠকৃত দুরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।-আবু দাউদ, হাদিস নং-১০৪৭
এমনিতেই তিরমিজি শরীফের হাদিস অনুযায়ী আমরা জানতে পারি, যে ব্যক্তি দুরুদ পাঠ করে আল্লাহতাআলা তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করেন। সুতরাং আমাদের জুমার দিন অন্যান্য আমলের পাশাপাশি বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করা উত্তম।
দোয়া কবুলের দিন জুমা: জুমা দিনের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এ দিনটিতে এমন একটি সময় রয়েছে যখন দোয়া করলে তা কবুলের আশা করা যায়। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে-
হযরত আনাস ইবনু মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিনের যে মুহূর্তে (দোয়া কবুল হওয়ার) আশা করা যায় তা আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে তালাশ করো।’-তিরমিজি, মুসলিম, মিশকাত, তালিকুর রাগিব
হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।-মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ
সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের আমল: হযরত আবু সাঈদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর (পরবর্তী) জুমা পর্যন্ত নূর হবে। এছাড়াও সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত হাদিসগ্রন্থে পাওয়া যায়। আল্লাহতাআলা আমাদেরকে জুমাবারের সকল ফজিলত দান করুন। আমিন
