জয়ের উল্লাসে ব্যস্ত নয়া চ্যাম্পিয়ন স্পেন। একদিকে উল্লাস আরেক দিকে ক্যামেরা ধরতেই থমকে গেল সব। ফুটবলের বরপুত্র মেসি বিষণ্ন বদনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার চোখ বেয়ে পড়ছে অশ্রু। এই বিষণ্নতা ছুঁয়ে গেছে গোটা বিশ্বকে। আপ্লুত করেছে বাংলাদেশের কোটি কোটি আলবিসেলেস্তে ভক্তদের। পুরো ক্যারিয়ার উজ্জ্বল তার। ভালো হলো না শেষটা। এক রাশ আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো মেসিকে। পারলো না আর্জেন্টিনা। পারলেন না লিওনেল মেসি। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সঙ্গে কোপা চ্যাম্পিয়ন। ফুটবলের জাদুকর মেসি রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে খেলেছেন রণসূর্যের ভূমিকায়। তাই তো বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে মেটলাইফে চোখ রেখেছিলেন বাংলাদেশের কোটি কোটি দর্শক। পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলা আর্জেন্টিনা ফাইনালে ছিল ছন্নছাড়া। স্পেনের দলগত বন্ধনী ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টিনা শিবির। শেষ সময়ে গোল দিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আকর্ষণ তৈরি করলেও পারেনি ফাইনালে। ভালো খেলে বিশ্বসেরার মুকুট বাগিয়ে নিয়েছেন বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের স্পেন।
রোববার রাত একটায় মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন। ফাইনালের আগে গোটা বাংলাদেশে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন স্থানে জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয় খেলা। রাতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই যাদের তারা চোখ রেখেছিলেন টিভিতে, মোবাইল স্ক্রিনে। স্বভাবসুলভ খেলতে পারেনি দলটি। হারতে হয়েছে ১-০ গোলে। শেষ বাঁশি বাজার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেসব দৃশ্য।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে উচ্ছ্বসিত ছিল যেসব এলাকা তার মধ্যে অন্যতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইনালকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের আমেজ। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ দেখতে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। খেলা শুরুর আগেই ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো মাঠ। তিলধারণেরও জায়গা ছিল না।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার। নাটকীয় এই লড়াইয়ে স্পেনের জয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন লাল জার্সিধারী সমর্থকরা। অন্যদিকে প্রিয় দলের পরাজয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক আর্জেন্টিনা ভক্ত। অতিরিক্ত সময়ে স্পেন গোল করে এগিয়ে গেলে মুহূর্তেই বদলে যায় পরিবেশ। স্পেনের সমর্থকদের একাংশ উল্লাসে ফেটে পড়লেও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অনেককে হতাশ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। শেষ বাঁশি বাজার পর কেউ নীরবে মাঠ ছাড়েন, কেউ বন্ধুদের জড়িয়ে আবেগ প্রকাশ করেন। আবার স্পেনের সমর্থকরা পতাকা উড়িয়ে, স্লোগান দিয়ে এবং একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজয় উদ্যাপন করেন।
বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক হলের উদ্যোগেও মোট ৫টি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ, শহীদুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল, ভিসি চত্বর এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল প্রাঙ্গণে সন্ধ্যার পর থেকেই দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই বেশির ভাগ স্থানই দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়।
খেলা শেষে বিভিন্ন স্থান থেকে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরতে শুরু করেন। তবে বহিরাগতদের প্রবেশ, ব্যারিকেড ভাঙা এবং নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট ঘটনাগুলো বিশ্বকাপ ফাইনালের আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়। অনেক শিক্ষার্থীর মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে দর্শক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন।
তবে রাত গভীর হতে না হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দোয়েল চত্বর মোড়ে বহিরাগতরা ব্যারিকেড ভেঙে টিএসসি এলাকায় প্রবেশ করেন। প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শত শত বহিরাগত সমর্থক ঢুকে পড়েন ক্যাম্পাসে। এতে জহির রায়হান রিপন নামের এক শিক্ষার্থী বহিরাগত মোটরসাইকেলের আঘাতে আহত হন। বিএনসিসি’র এক নারী শিক্ষার্থীও বহিরাগতদের ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাত সাড়ে ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ার কথা জানিয়েছিল।
