ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, দুদক-এনবিআরকে তদন্তের আহ্বান

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, দুদক-এনবিআরকে তদন্তের আহ্বান

ফন্ট সাইজ:

সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, সম্পদ হস্তান্তর, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ তুলে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) প্রশাসক বোর্ড (বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস) জানিয়েছে, এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সিআইডিকে আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল প্রশাসক বোর্ডের সমন্বয়ক তানভীর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের পারস্পরিক বিরোধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্ট গত ৫ই জুলাই বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেন। দায়িত্ব নেয়ার পর পূর্ববর্তী ট্রাস্টি বোর্ডের নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের অসহযোগিতা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে বোর্ডের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বৈধ ট্রাস্টি বোর্ডের নিবন্ধন যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) ছিল না। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রেও জালিয়াতির বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি স্থায়ী সম্পদ অন্যের নামে হস্তান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীর শ্যামলীর রূপায়ণ শেলফোর্ড ভবনের প্রায় ৯ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া মিরপুর-২-এর শাহ আলীবাগ এলাকায় জনতা হাউজিংয়ের ২১১/২১২ নম্বর প্লটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ১০ তলা ভবন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসক বোর্ডের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক হিসাবে বিপুল অঙ্কের গরমিল এবং একাধিক সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তহবিল ব্যবস্থাপনা, ব্যয় এবং হিসাবরক্ষণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণও মিলেছে। পাশাপাশি কর, ভ্যাট এবং আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতি রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অনুমোদনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং দীর্ঘ সময় ধরে মাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এছাড়াও নিয়োগ, পদোন্নতি, দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্ধারিত ন্যূনতম জমির শর্ত পূরণ হয়নি এবং ভবনের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও ছিল না। বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস বলছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান করা যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন