রাজধানীতে বাবা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পুরাতন ভবনের চিলেকোঠায় বাবা-ছেলেকে অপহরণ করে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে মুক্তিপণও আদায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. বিল্লাল, মো. জুম্মন ও শেখ মো. ফয়সাল নামে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র?্যাব-৪। গতকাল মিরপুর পাইকপাড়া এলাকায় র?্যাব-৪ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন র?্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এন. রায় নিয়তি।

র‌্যাবের এই কম্পানি কমান্ডার বলেন, রাজধানীর সবুজবাগের ব্যবসায়ী মো. মাহফুজুর রহমান গত ২রা জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে তার ছেলেকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের আত্মীয়ের বাসা থেকে সবুজবাগে ফিরছিলেন। পথে কল্যাণপুর এলাকায় দারুস সালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকান থেকে পানি কেনার জন্য থামেন। পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করতেই ৫-৬ জন এসে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাহফুজ ও তার ছেলেকে একটি পুরনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে তাদের দু’জনকে ব্যাপক মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।

একপর্যায়ে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও ফোন তল্লাশি করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে বিভিন্ন নিকটাত্মীয়কে মোবাইল ফোন করে টাকা পাঠাতে চাপ দেয় তার। পরে পরিচতি কয়েকজনসহ মাহফুজ খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা এনে তাদের দেয়। এরপর মাহফুজের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মোটরসাইকেল রেখে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে তাদের পাঠিয়ে দেয়। সিএনজিতে তুলে দেয়ার আগে তাদের হুমকি দেয়- এই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে তোদের জানে মেরে ফেলা হবে। আরও ভয়াবহ পরিণতি হবে।

এরপর মাহফুজ ও তার ছেলে মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে দু’দিন চিকিৎসা নেয়। এরপর তারা বিষয়টি দারুস সালাম থানায় জানায়। একইসঙ্গে একটি মামলা করে। ওই মামলার সূত্র ধরেই র?্যাব-৪ এর সদস্যরা ১৮ই জুলাই রাতে বিল্লাল, জুম্মন ও ফয়সালকে শনাক্ত করে দারুস সালাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এন. রায় নিয়তি বলেন, এই ফয়সাল-জুম্মনরা দারুস সালামসহ শাহআলী, মিরপুরসহ থানাসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্থান্তর করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন