ফেসবুকে দুই শিক্ষার্থীর অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নভোথিয়েটারের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অশ্লীল ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় ববির এক ক্যাম্পাস প্রতিনিধিকে দায়ী করা হয়। আগেই ববি ক্যাম্পাস সাংবাদিক প্রেস ক্লাবের সভাপতি ক্ষমা লজ্জা প্রকাশ করে একটি ভিভিও আপলোডের পর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এশিয়া পোস্টের প্রতিনিধি আবু উবাইদা, আব্দুল কাদের জীবনসহ একই বিভাগের ৮ জন শিক্ষার্থী। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সূত্রমতে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পেজে গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরফান সিফাতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। প্রেস ক্লাবের পেজে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে। দায়ী করা হয় ববি ক্যম্পাস প্রেস ক্লাবের সম্পাদক আবু উবাইদাকে। ফেসবুকে এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেয় বরি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা বলার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু উবাইদা এবং সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেয়া হয়। এরপরই সিফাতের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
খবর পেয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের উদ্ধার করতে গেলে, তাদেরকেও আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ মারধর করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকপ্রশাসন, কোস্টাল অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। জানা গেছে, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তসহ একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হামলার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। সংবাদ সংগ্রহের সময় ‘আজকালের কণ্ঠ’-এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ রানার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলায় নেতৃৃত্বে ছিলেন গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আরফান সিফাত ও একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসান। এ ছাড়াও একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমতি, রিয়াজ ও নাইমসহ আরও ৪০-৫০ জন এই নৃশংস হামলায় অংশ নেন। এ বিষয়ে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘আমার কাছে এখনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা এবং সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন বলেন, আমার বিভাগের ৮-৯ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, আমরা উভয়পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আহ্বান করেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
