বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখন অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন স্বৈরশাসকের ভাষায়। তাদের চেলা-চামুণ্ডারা কথা বলে। বটবাহিনীরা মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলা করে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর গণরুম হবে না। এই সুযোগ আর দেয়া হবে না। গণরুম-গেস্টরুমের কবর হয়ে গেছে ’২৪-এ। এটা আর ফিরে আসবে না। এখন যদি কেউ ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে তাদেরকেই ফিরায়ে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমীর এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বৃটেনে এক মন্ত্রী শুধু সাড়ে ৬০০ বাড়ি করেছে। কতো বড় জমিদার! সব বাংলাদেশের জনগণের চুরি করা টাকা। বেলজিয়ামে গিয়ে দেখলাম এক মন্ত্রীর ৯০০ দোকান আছে। আমি তো শুনেই বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। আমি বললাম যে, ওই মার্কেটটায় আমাকে নিয়ে যাও। বললো এক মার্কেটে না অনেকগুলো মার্কেটে। এরা কোথাকার জমিদার? এরা জনগণের টাকা চুরি করে ওখানে নিয়ে দোকান কিনেছে।
শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা বৈষম্য চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। ন্যায়বিচারের জন্য বিচার বিভাগটা স্বাধীন হবে। এই সরকার হওয়ার আগে, নির্বাচন হওয়ার আগে সবাই চিৎকার দিলাম। বর্তমান সরকারি দল বললো, আমরা বললাম। এখন নির্বাচন হয়েছে, এখন আর সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ চায় না। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চায় না। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন চায় না। শক্তিশালী গুম কমিশন চায় না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চায় না। আগের ফ্যাসিবাদীর আলোকেই তারা সবকিছু রাখতে চায়। এজন্যই তারা গণভোটের গণরায়ও মানতে চান না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, এ রায় বাস্তবায়ন বাংলার জমিনে হবে ইনশাআল্লাহ।
বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখনো বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক অপচর্চার কবল থেকে মুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি মনে করবেন না, আমরা ঘুমিয়ে গেছি। সমুদ্রে যখন নিম্নচাপ তৈরি হয়, তখন তার অনিবার্য ফসল হচ্ছে পরবর্তী একটা ঘূর্ণিঝড়।
জামায়াত আমীর বলেন, আবার যুবক হয়ে লড়াইও করবো যুবকদের সঙ্গে ইনশাআল্লাহ। যুবকদের হাত ধরে, যুবকদের সঙ্গে থেকে, যুবকদের সম্মুখ ভাগে থেকে আন্দোলন চলবে ইনশাআল্লাহ। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না। আজকে এই ওয়াদায় অঙ্গীকার আরেকবার করে গেলাম প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে দাঁড়িয়ে। আল্লাহতায়ালা এই ওয়াদা পালনের তৌফিক আমাদেরকে দান করুন।
