ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু ধর্ষণ মামলা

তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন জেল

ফন্ট সাইজ:

প্রায় ১৫ বছর আগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় সংঘটিত এক শিশু ধর্ষণের আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডিতদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়ার ইউনুস কসাই এর ছেলে মো. আনিস রানা (৩৫), মুসলিমনগর এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং ভোট কসাই এর ছেলে মো. দুলাল (৪৮)। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মুসলিমনগর এলাকার মো. সেলিম এর ছেলে মো. আনিছুর (২৯), বাংরু মোহাম্মদ এর ছেলে মো. খতিবুর খতু (৩২) এবং বজলুর ছেলে মো. লালু (২৬)।

আদালতের রায় অনুযায়ী, মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারার সুবিধা কিংবা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ (রেমিশন) সুবিধা পাবেন না। অপরদিকে, মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় হাজতে থাকা সময় সাজা থেকে সমন্বয় হবে। তবে তারাও জেল কোড অনুযায়ী রেমিশনের সুবিধা পাবেন না। রায় ঘোষণার সময় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।

অন্যদিকে আদালতে উপস্থিত দণ্ডিত আসামিদের সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের কার্যকরী অংশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁওয়ের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, এই রায় ন্যায়সংগত হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ভিকটিম ন্যায়বিচার পেয়েছে। শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন