যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘হাত মেলালো’ ইরাক-সিরিয়া, চুক্তিতে স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘হাত মেলালো’ ইরাক-সিরিয়া, চুক্তিতে স্বাক্ষর

ফন্ট সাইজ:

ইরাক ও সিরিয়া ভূমধ্যসাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত কিরকুক-বানিয়াস তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

মিডল ইস্ট আই (এমইই) প্রথম এ প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসও সম্ভাব্য এই চুক্তির খবর জানায়।

এমইই’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠকে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ইরাকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাসেম আবদুল করিম নাসর, যিনি বাসরা অয়েল কোম্পানির প্রধান।

অন্যদিকে সিরিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইউসুফ কাবলাওয়ি, সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে পাইপলাইনটি পুনরুদ্ধারকে “দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক বাস্তবায়নে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সম্পৃক্ততাকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাগদাদ ও দামেস্কের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রভাব এবং বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবেও প্রকল্পটিকে দেখা হচ্ছে।

এই পাইপলাইন পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম, যেখানে রয়েছে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন, লস অ্যাঞ্জেলসভিত্তিক টিআই ক্যাপিটাল এবং সিরিয়া-কাশতারের ধনকুবের আল-খাইয়াত ভাইদের প্রতিষ্ঠান। এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ইতোমধ্যে সিরিয়ায় অর্থনীতি, অবকাঠামো, রিয়েল এস্টেট ও বিমান পরিবহন খাতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে।

গত সপ্তাহে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ঘোষিত একাধিক প্রকল্পের মধ্যে এটিও ছিল। সফরে তিনি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

তিনি এই পাইপলাইন প্রকল্পকে লেভান্ত অঞ্চলে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উদ্যোগের একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যা যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য লাভজনক হবে।

প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইনটি ১৯৫২ সালে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি নির্মাণ করেছিল।

তবে ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষ নেয়ায় বাগদাদ পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসনের পর এটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

বর্তমানে পাইপলাইনটি পুনরায় চালু করতে নতুন সংরক্ষণ ট্যাংক, পাম্প, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণসহ ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

এই অঞ্চলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, বাস্তবে পুরো পাইপলাইনই নতুন করে নির্মাণ করতে হতে পারে, যা সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও জানান, পুনর্নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করা হয়েছে, যা এই প্রকল্পে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত বহন করে।


নূর মোহাম্মদ এরফান

৫ ঘন্টা আগে

ইবলিসের বংশধররা সর্প হ‌ইয়া দংশন করে ওঝা হ‌ইয়া ধারে।

মন্তব্য করুন