মানবিক সহানুভূতির প্রয়োজন ক্যান্সারে আক্রান্ত জহিরুলের

ফন্ট সাইজ:

‘চোখের সামনে আমার ছেলেটা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। আমি একজন মা হয়ে কিছুই করতে পারছি না। এমন দৃশ্য দেখার আগে আল্লাহ্তায়ালা আমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নিলো না কেন? সরকার বা কোনো হৃদয়বান মানুষ যদি একটু পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আমার সন্তানটা আবার বাঁচার সুযোগ পাবে।’ অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা রোগাক্রান্ত সন্তান জহিরুল ইসলাম (৩১)কে বাঁচাবার জন্য এভাবেই আকুতি-মিনতি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেছেন লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত জহিরুলের অসহায় মা মমিনুননেছা। এক সময়ের কর্মঠ, হাসিখুশি এই যুবককে বাঁচাতে এখন সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষের মানবিক সহানুভূতির প্রয়োজন।
জহিরুল বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেনের ছেলে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চার বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মা’কে নিয়ে চলছিল তার স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু ২০২৫ সালের শুরুতেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। হঠাৎ জ¦র, তীব্র পেটব্যথা, আমাশা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসক থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসা নেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি)এর ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাসের কাছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যায় জহিরুল লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা তাকে ভারতের হায়দরাবাদের একটি ক্যান্সার হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভিসা জটিলতায় সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়।
শেষ আশাটুকু নিয়ে গত ২৬শে আগস্ট জহিরুল চিকিৎসা নেন চীনের ফুদা ক্যান্সার হাসপাতালে। সেখানে এক মাস চিকিৎসায় ব্যয় হয় প্রায় ৩২ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারকে বিক্রি করতে হয়েছে তাদের জমি-জমা ও বসতভিটা। তবুও চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। শেষ হয়ে গেছে সব সঞ্চয়, সব সম্বল। এখন জহিরুল তার অসুস্থ শরীর আর ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বোনজামাই মনজুরুল আলমের বাড়িতে। চিকিৎসকদের মতে, আরও তিনটি কেমোথেরাপি, নিয়মিত ওষুধ এবং পুনরায় চীনে চিকিৎসা নিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু অর্থের অভাবে কেমোথেরাপি তো দূরের কথা, প্রতিদিনের ওষুধও কিনতে পারছেন না। প্রতিদিন শুধু ওষুধেই প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন