ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ওই দাবি সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার আছে বলে সমর্থন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ঘটনাটি নিয়ে ফিফার রাজনৈতিক বার্তাবিষয়ক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্স প্রধান অ্যানড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের এমন মত প্রকাশ করতে দেয়ার ‘সুযোগ এবং অধিকার’ ছিল। জুলিয়ানির এই মন্তব্য ঘটনাটি ঘিরে চলমান বিতর্ক আরও উসকে দিতে পারে। এরই মধ্যে ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার তদন্তের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ, যা একটি বৃটিশ ওভারসিজ টেরিটরি, তা দীর্ঘদিন ধরেই বৃটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। এর বাংলা অর্থ হলো- ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জুলিয়ানি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা প্রথম সংশোধনীর অধিকারকে বিশ্বাস করি। এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার তদন্তের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়। কিন্তু ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। ফকল্যান্ডসের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কখনো টলবে না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরও জানায়, ব্যানার প্রদর্শনকারী আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, তা ফিফার বিষয়। তবে তারা ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইলের সঙ্গে একমত হয়ে বলেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয়টি তদন্ত করা উচিত। অন্যদিকে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ সরকার জানিয়েছে, ব্যানারের ঘটনায় তারা হতাশ, তবে বিস্মিত নয়। তাদের আশা, ফিফা নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এক বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, আমরা চাই না খেলাধুলায় রাজনীতি ঢুকে পড়ুক। এছাড়া তারা জানায়, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে প্রতিটি আলোচনায় দ্বীপপুঞ্জ ও এর বাসিন্দাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হোক, সেটিও আমরা চাই না।
২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের জনগণ বিপুল ব্যবধানে বৃটেনের ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবেই থাকার পক্ষে মত দেন। দুই দিনব্যাপী ওই গণভোটে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার অংশ নেন। মোট ১ হাজার ৫১৭টি ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩টি পড়ে বৃটেনের সঙ্গে থাকার পক্ষে। বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র তিনটি। বুধবারের জয়ের পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে আর্জেন্টাইন সেনাদের দেখা যায়। তিনি লিখেছেন, এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না। আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে এ নিয়ে ব্যানার আনতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, আমরা ফকল্যান্ডসকে আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে বহন করি।
শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ডস, দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে স্লোগান দেন। ফকল্যান্ডস নিয়ে বৃটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ১৯৮২ সালে সংক্ষিপ্ত হলেও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। সেই সময় আর্জেন্টিনার বাহিনী দ্বীপপুঞ্জে অবতরণ করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে বৃটেন সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে তাদের হটিয়ে দেয়। ৭৪ দিনব্যাপী ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন বৃটিশ সেনাসদস্য, তিনজন দ্বীপবাসী এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন।
