ফুটবল উন্মাদনার বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মেগা ফাইনাল সমাগত। বিশ্বসেরা হওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রাক্কালে নিউ ইয়র্কে এক জমকালো এবং ঐতিহাসিক ফুটবল আড্ডার আবহ তৈরি হয়েছিল গতকাল সন্ধ্যায়। ম্যানহাটনের একটি অভিজাত কনভেনশন হলে ‘বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনাল’ শিরোনামে দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে নিয়ে এক বিশেষ উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ব ফুটবলারদের এই মিলনমেলার মূল আকর্ষণ ছিলেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।
ফাইনালের মহারণে অবতীর্ণ হতে যাওয়া দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের শীর্ষ প্রতিনিধিরা ছিলেন একই মঞ্চে। ফুটবলামোদীদের চমকে দিয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে জাদুকর অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত হন দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী গোলরক্ষক মার্টিনেজ। অপরদিকে স্প্যানিশ ফুটবলের গৌরবগাথা নিয়ে হাজির হন তাদের প্রধান কোচ এবং দলের অধিনায়ক। নিউইয়র্কে অবস্থানরত কতিপয় অত্যন্ত ভাগ্যবান দর্শকের সামনে ফুটবলের দুই পরাশক্তির প্রতিনিধিরা সরাসরি এই উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন সৃষ্টি করা স্পেনের উদীয়মান বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালের শৈশবের একটি ছবি নিয়ে মেসির কাছে প্রশ্ন করা হয়। প্রকাশিত সেই ভাইরাল ছবিটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, প্রশ্নের জবাবে বলেন—‘পুরো ঘটনাটি সত্যিই অসাধারণ এবং একদিক থেকে অত্যন্ত অবাক করার মতো। সেই দিনের সেই ছোট শিশুটি আজ বিশ্বমঞ্চে একজন দুর্দান্ত ও বিখ্যাত ফুটবলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার ভেতরের প্রতিভা অতুলনীয়। সে ফুটবলকে অনেক দূর নিয়ে যাবে এবং বিশ্ব ফুটবলে তার অবদান দীর্ঘস্থায়ী হবে। আমি তার ক্যারিয়ারের আগামী দিনগুলোর জন্য মন থেকে সাফল্য কামনা করি।’
আসন্ন মেগা ফাইনাল ঘিরে দুই দলের মানসিক প্রস্তুতি এবং রণকৌশল নিয়েও কথা বলেন দুই শিবিরের কাণ্ডারিরা। প্রশ্নোত্তর পর্বে দুই দলের নেতারাই ফুটবল এবং ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও গভীর আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি ছিলেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। তিনি এ সময় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একনিষ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কস্থ বিভিন্ন দেশের দর্শক ও বিশ্ব মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর হলো-বাছাইকৃত এবং খুব সীমিত তবে বর্ণিল এই আয়োজনে বাংলাদেশেরও কয়েকজন ভাগ্যবান প্রতিনিধি সরাসরি উপস্থিত থাকার বিরল সুযোগ পেয়েছেন। খোদ নিউ ইয়র্কের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ফুটবলের এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সরাসরি সাক্ষী হতে পেরে উচ্ছ্বাসিত এবং চিৎকার করে বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমের জানান দেন।
(অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরীসহ কয়েকজন বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন)
