বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মাঠে ফুটবলারদের পাশাপাশি স্পটলাইট থাকবে আরও একজনের ওপর- তিনি স্লাভকো ভিনচিচ। আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার মেগা ফাইনালে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন এই ৪৬ বছর বয়সী স্লোভেনিয়ান। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে থাকবেন স্বদেশী তোমাজ ক্লানচনিক এবং আন্দ্রাজ কোভাচিচ। এর মাধ্যমে প্রথম স্লোভেনিয়ান রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন ভিনচিচ। ফাইনালের দায়িত্ব পাওয়ার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভিনচিচ। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন, ‘খবরটা শোনার পর প্রথমে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, তারপর এক অসীম আনন্দ গ্রাস করল। আমি কাঁপছিলাম।
বিশ্বকাপের ফাইনালে রেফারি হওয়া যেকোনো তরুণ রেফারির জন্য স্বপ্নের মতো। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে নিজের দেশ স্লোভেনিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি এবং আমার দল অত্যন্ত গর্বিত।’ ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীর্ষ স্তরে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এক মুখ ভিনচিচ। ২০২৪-এ ওয়েম্বলিতে রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যকার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল এবং ২০২২-এর ইউরোপা লীগের ফাইনাল সফলভাবে পরিচালনা করেন তিনি। এছাড়া দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ভিনচিচ। এর মধ্যে ইউরো ২০২৪-এ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্পেনের সেমিফাইনাল ম্যাচটিও ছিল।
আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য অবশ্য ভিনচিচকে ঘিরে রয়েছে একটি দুঃসহ স্মৃতি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার পরিচালিত প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরে চরম অঘটনের শিকার হয় লিওনেল মেসির দল। যদিও সেই ধাক্কা সামলে সেবার তৃতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তেরা। চলতি বিশ্বকাপে এটি ভিনচিচের চতুর্থ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি ব্রাজিল-মরক্কো ড্র ম্যাচ, আলজেরিয়ার জয় এবং মেক্সিকোর কাছে ইকুয়েডরের বিদায় নেয়ার ম্যাচগুলো পরিচালনা করেছেন।
