ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) বিদেশি ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছে বিসিবি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটকে এক ছাতার নিচে এনে একটি দলের অধীনে পরিচালনা করা হবে এবং বিদেশি ক্রিকেটারদেরও একই কাঠামোর অংশ হিসেবে খেলানো হবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিটি দলে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার থাকবে।
একটি নিলামের মাধ্যমে দল গঠনের পর সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে কোন ক্রিকেটার দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন। তিন ফরম্যাটে ছয়টি দলের জন্য মোট ১৮ জন বিদেশি ক্রিকেটার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে-প্রতি দলে তিনজন করে। তবে কোন দেশের ক্রিকেটার কোন ফরম্যাটে খেলবেন, তা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। কোনো ক্রিকেট বোর্ড টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের জন্য ক্রিকেটার দিতে আগ্রহ দেখাতে পারে। আবার অন্য কোনো বোর্ড দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড় দিতে পারে। পাশাপাশি ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদেরও ইংল্যান্ডে গিয়ে স্থানীয় ক্রিকেটে খেলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিসিবির পরিচালক ও টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ‘বিসিএলকে নতুন কাঠামো দিয়ে একটি প্যাকেজের অধীনে আনতে চাচ্ছি। তিন ফরম্যাট এই প্যাকেজের অংশ। সামনের মৌসুম থেকেই এ উদ্যোগ চালু হবে।
এই আসরে বিদেশি ক্রিকেটার থাকবে। আমরা ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা তিনজন করে ক্রিকেটার পাঠাবে, সেই ক্রিকেটাররা যে কোনো ফরম্যাটে খেলতে পারে। আবার আমাদের বিসিএলের তিন ফরম্যাটের তিনজন সেরা ক্রিকেটার ইংল্যান্ডে গিয়ে স্থানীয় ক্রিকেট খেলবে এ-ধরনের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ নতুন পরিকল্পনায় তিন ফরম্যাটের জন্য আলাদা দল নয়, একই ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে পুরো ক্রিকেট কাঠামো পরিচালিত হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দল পরিচালনা, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক, ভ্রমণ ও টিএ-ডিএর খরচ বহন করবে; বিসিবি বহন করবে অপারেশনাল খরচ।
সেপ্টেম্বরে নতুন মৌসুম থেকেই এই কাঠামো চালুর লক্ষ্য বিসিবির। এতে করে একেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হবে ৫০ দিনের ক্রিকেটে তিন ইভেন্টে। ফলে বিসিবির ১৫ কোটি টাকা এই খাতে বাড়তি খরচ থেকে বেঁচে যাবে। চার দিনের ন্যাশনাল ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) অবশ্য বর্তমান বিভাগীয় কাঠামোতেই থাকবে। তবে বিসিএল, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাকে একটি অভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্যাকেজের আওতায় এনে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা চলছে। একই নামের অধীনে তিন ফরম্যাটের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও বাণিজ্যিক ও আকর্ষণীয় করাই বিসিবির লক্ষ্য।
