সোনাইমুড়ী পৌর শহরে প্রতিনিয়ত রমজানেও যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীদের, যা তাদের সময় এবং অর্থের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। পৌরশহরের বিভিন্ন জায়গায় ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করা হচ্ছে, ফলে পথচারীদের হাঁটা-চলার জায়গা নেই। এর ফলে তারা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছে। এতে বাড়ছে যানজট, এ ছাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন শপিং মল এবং মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে সড়কের যানবাহন চলাচল আরও ধীর গতি হয়ে পড়েছে। সোনাইমুড়ী পৌর শহরের অবৈধ ইজি বাইক চলাচল এবং রুট পারমিট ছাড়া বাস চলাচলসহ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের অভাবে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে পৌর শহরের সড়কে অতিরিক্ত চাপ হয়ে পড়েছে। যার ফলে যানজট বেড়ে গিয়ে পৌরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সোনাইমুড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমাম হোসেন স্যারসহ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সোনাইমুড়ী বাজার থেকে কর্মস্থলে পৌঁছাতে ৫ মিনিটের জায়গায় প্রায় ৩০ মিনিট সময় লেগে যায়, ফুটপাথের যে অবস্থা পরিবার নিয়েও ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে আসবো সেই সুযোগও নেই। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করছি রমজান মাসে রোজাদারদের কষ্টের কথা চিন্তা করে যানজট নিয়ে কিছু একটা করা দরকার পৌরবাসীর জন্য। যানজট চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটপাথ উচ্ছেদ অভিযান চালানো উচিত পাশাপাশি অবৈধ অটোরিকশা চলাচল কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি। এসব দেখার যেন কেউ নেই। সরজমিন দেখা যায়, সোনাইমুড়ী হাইওয়ে সড়ক রেজিস্ট্রি অফিসের রাস্তার মাথা থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ গজ রাস্তা প্রশস্ত করা হয়নি। সড়কের উত্তরে স্থায়ী দোকানপাট রয়েছে, পৌরসভার পাকা রাস্তাগুলো হকার ও অটোরিকশা ড্রাইভারদের দখলে। এ ছাড়া ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২টি রেস্টুরেন্ট ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে, চৌরাস্তা থেকে রেজিস্ট্রি অফিস পর্যন্ত চলাচল করা রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি, সড়কে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করতে দেখা যায় এবং এসব রিকশা থেকে চাঁদা আদায় করতে যেখানে সেখানে থামিয়ে চাঁদা আদায়কারীরা যদিও পৌরসভার চাঁদা আদায়ের কোনো অনুমোদন নাই। পৌরবাসীর দাবি যত দ্রুত সম্ভব যানজট নিরসনে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। স্থানীয়রা হকার উচ্ছেদ ও অটোরিকশা, জননী বাস, সিএনজি শৃঙ্খলায় আনার জন্য জোর দাবি জানান। সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নাছরিন আক্তার যানজট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোনো পদক্ষেপ নিলে রাজনৈতিক নেতারা মব সৃষ্টি করে। রাস্তার পাশে থাকা হকারদের উচ্ছেদ না হলে যানজট লেগেই থাকবে, তা করা সম্ভব নয়। মানবজমিনের প্রশ্ন, যানজট নিরসনের ব্যাপারে দেখবে কে? জবাবে তিনি বলেন, সে ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
সোনাইমুড়ীতে যানজটে স্থবির জনজীবন
আমিনুল ইসলাম মানিক, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) থেকে
২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
