শায়েস্তাগঞ্জে চলছে মাটিকাটার উৎসব

শায়েস্তাগঞ্জে চলছে মাটিকাটার উৎসব

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দিনে এবং রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধভাবে মাটিকাটার উৎসব চলছে। পরিবেশ আইন অমান্য করে কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করছে একাধিক চক্র। জমি হতে কেটে নেয়া মাটি ট্রাক দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার জায়গা, সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। এভাবে মাটিকাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ার ফলে ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। উর্বর কৃষি জমি থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কিংবা উর্বর উপরিভাগের মাটি বিনষ্ট হয়, পরিবেশ, প্রতিবেশ বা জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধিত হলে মাটিকাটা যাবে না। ড্রেজার বা এক্সকাভেটরের মাধ্যমে বা অন্য কোনো কৌশলী প্রক্রিয়ায় বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। তাছাড়া জমিসহ পার্শ্ববর্তী অন্য জমির ক্ষতি, চ্যুতি বা ধসের উদ্ভব হলেও ওই জমি থেকে মাটিকাটা যাবে না। পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটিকাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২-এর ৬ ধারা) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষি জমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই কাজ দ্বিতীয়বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে রাতের আঁধারে ১০-১৫টি ট্রাক দিয়ে টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় একটি চক্র। মাটিকাটার অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে চক্রটি সাংবাদিকদের দেখে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। বেশকিছু এলাকা থেকে প্রতিদিন রাতের আঁধারে অবৈধভাবে কৃষি জমিতে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে কেটে মাটি ও বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, দেশের পটপরিবর্তনের পর কয়েকজন আবারো মাটির ব্যবসা জমজমাট করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছে স্থানীয় জনগণ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্ত জানান, অবৈধভাবে রাতের আঁধারে মাটিকাটার অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে অনতিবিলম্বে আইনানুগভাবে মাটিকাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন