বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আর্জেন্টিনা। তবে সেটি কেবল তাদের নান্দনিক ফুটবলের জন্য নয়, বরং টুর্নামেন্ট জুড়ে পক্ষপাতমূলক রেফারিং ও ‘বিশেষ সুবিধা’ পাওয়ার অভিযোগকে ঘিরে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড কিংবা নাটকীয় ম্যাচে মিশরকে হারানোর পর প্রতিপক্ষ শিবির থেকে ওঠা এমন অভিযোগের বিপরীতে অবশেষে মুখ খুলেছেন খোদ আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টাইনরা। ৮৫ মিনিটের পর অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলের জয় ছিনিয়ে নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের পর সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে মেসি সরাসরি বলেন, ‘আপনারা পছন্দ করুন আর নাই করুন, গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। কে কী বললো তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা আরও একবার প্রমাণ করেছি যে আমরা বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ দুই দলের একটি। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এবং কেউ আমাদের হাতে ট্রফি বা সাফল্য তুলে দেয়নি।’
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ জেতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মিশরের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ১১ মিনিট বাকি থাকতেও ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-২ ব্যবধানে জেতে স্কালোনির শিষ্যরা। তবে সুইজারল্যান্ড ও মিশরীয় কোচের দাবি, রেফারিরা আর্জেন্টিনাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের ব্রেল এম্বোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডের পর সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘এমন একটি নিয়মের কারণে আমাদের শাস্তি দেয়া হলো যা মেনে নেয়া অসম্ভব।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল ভক্তদের একাংশ দাবি করছেন, ফিফা চাইছে মেসিই আবার চ্যাম্পিয়ন হোক। তবে এই ‘সহায়তা’র তত্ত্বকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এই সহায়তার গল্প চিরকালই থাকবে, এটা আমাকে বিন্দুমাত্র ভাবায় না। আজকের দিনে ভিএআর থাকতে কাউকে অন্যায্য সুবিধা দেয়া অসম্ভব, তেমন কিছু হলে তা সবার চোখে পড়তো। আমরা খুব ভালো করেই জানি, আমাদের কোনো সাহায্য করা হয়নি।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করার পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দুই কানে হাত দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার এক আগ্রাসী উদ্যাপন করেন। ম্যাচ শেষে নিজের অভিব্যক্তি জানিয়ে চেলসির এই তারকা বলেন, ‘আমাদের নিয়ে চারপাশে বড্ড বেশি কথা হচ্ছিল। মাঠের ওই উদ্যাপনটি ছিল উগ্র আনন্দ আর জমে থাকা হতাশার এক মিশ্র বহিঃপ্রকাশ।’
সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে আগামীকালের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার গৌরব নিয়ে মেসি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে শেষবারের মতো হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন, ‘টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা খুব কম দলই পারে। আজ যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হারতাম, তবে অনেকে অনেক বেফাঁস কথা বলার সুযোগ পেতো। আমরা তাদের সেই সুযোগটাই দিইনি।’
