যথাযোগ্য মর্যাদায় কুয়ালালামপুরে জুলাই শহিদ দিবস পালিত

টেলিফোনে যুক্ত ছিলেন শহিদ আবু সাঈদের পিতা

যথাযোগ্য মর্যাদায় কুয়ালালামপুরে জুলাই শহিদ দিবস পালিত

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ হাই কমিশন, কুয়ালালামপুর যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র কুআরান থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।  ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত "জুলাই অনির্বান" শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তীতে ‘জুলাই শহিদ দিবস’-এর তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্বে প্রদত্ত বক্তব্যে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, "জুলাই শহিদ দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাদের আত্মদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমান সরকার শহিদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকেও ভূমিকা রাখতে হবে।"
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ সকলকে। বক্তারা আরও বলেন, অসংখ্য ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। তারা মানবিক, স্বনির্ভর ও গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক‍্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জুলাই আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন এ সময় টেলিফোনে যুক্ত হয়ে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন