যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাংহাইয়ের অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি বলেন, কোনো একক দেশের এই প্রযুক্তির ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করা উচিত নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)।
সাংহাইতে ডব্লিউএআইসি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুক্রবার শি জিনপিং এই বক্তব্য প্রদান করেন। চীনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এই প্রথম তিনি সশরীরে এই সম্মেলনে অংশ নিলেন। সম্মেলনে শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন কোনো একক দেশের একক পারফরম্যান্স হওয়া উচিত নয়। বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সম্মিলিত ঐকতান। এই খাতে যেন কোনো নতুন ঐতিহাসিক অবিচার তৈরি না হয়। এমনটা প্রতিরোধ করার জন্য তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করার জন্য চীনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে সই করেন। এই সংস্থার সদর দফতর হবে চীনের সাংহাইতে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, সার্বিয়া, কিউবা, ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা এবং ১২টি এশীয় ও ১০টি আফ্রিকান দেশ। এই আন্তঃসরকারি সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা জোরদার করা।
প্রযুক্তি যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে: শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। চীনের এই শীর্ষ নেতা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যেন সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় আইন ও প্রবিধান, প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক সতর্কবার্তা এবং জরুরি মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: এই সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে তাদের প্রথম সরকারি পর্যায়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ব্যয়বহুল এআই মডেলগুলোর তুলনায় কম খরচে উন্নত সেবা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করছে চীনা এআই মডেলগুলো। তবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীন থেকে প্রযুক্তি আমদানির ওপর বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একই সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং হ্যাকার ও সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা নিয়েও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর জবাবে শুক্রবার শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্ত টেনে আনা বা এক দেশের নিরাপত্তাকে অন্য দেশের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টির আমাদের যৌথভাবে বিরোধিতা করা উচিত।
ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স কী?: চার দিনব্যাপী চলমান এই ডব্লিউএআইসি সম্মেলনে চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ১,০০০-এরও বেশি প্রদর্শকসহ সরকারি কর্মকর্তা ও গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে উপস্থিত থাকা বিশ্বনেতাদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট এবং থাইল্যান্ডের অনুতিন চার্নভিরাকুল। এই আয়োজনে চীনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রায় ৩,০০০টি পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ পরিচালনা করতে সক্ষম একটি বিশেষ স্মার্টফোনও রয়েছে।
