জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর চট্টলার প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা অঙ্গহানি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্ভব হলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দমনপীড়ন, গুম, খুন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। কোটা আন্দোলন দমনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে তিনি গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও রয়েছে। ইশরাক হোসেন আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। আন্দোলনে যে যার অবস্থান থেকে অবদান রেখেছেন, তাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেয়া হবে। অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। এ সময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে শহীদ ওয়াসিম আকরামের শহীদ হওয়ার স্থান ষোলশহর রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় তার নামে স্মৃতিফলকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে নিহত ৯ জনসহ দেশের সব শহীদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় গণ-অভ্যুত্থান আগে ঘটেনি। শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের নেতৃত্বেই দেশ অন্যায় শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে সরকার ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করেছে। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জুলাই কেবল একটি মাস নয়, এটি ত্যাগ, আত্মদান ও রাষ্ট্র সংস্কারের এক মহাকাব্য। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সল আহমেদ, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
