‘অমৃত’ মধুই এখন জনস্বাস্থ্যের ঘাতক

ফন্ট সাইজ:

ঔষধি গুণসম্পন্ন খাবার হচ্ছে মধু। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু চাষি ও লোভী ব্যবসায়ীর কারণে সেই খাঁটি মধুই এখন পরিণত হয়েছে নীরব ঘাতকে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একদল অসাধু চক্র খাঁটি মধুর সঙ্গে চিনি বা গুড়ের শিরা, ফিটকিরি, ক্ষতিকর কেমিক্যাল এবং সস্তা হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ (ঐঋঈঝ) মিশ্রিত করে দেদারসে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রকৃত মধু চাষিদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে খাঁটি মধু সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার আশায় নানাবিধ ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে বাহারি মোড়কে অথবা প্লাস্টিকের বোতলজাত করে খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হয়।

এই সকল অসাধু মৌচাষি ব্যবসায়ীদের নেই কোনো বিএসটিআই অনুমোদন বা কোনো লাইসেন্স।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা সরাসরি স্থানীয় মৌচাষিদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। মধুতে ভেজাল দেয়ার কোনো প্রক্রিয়া বা কৌশল তাদের জানা নেই, তাই মধুতে যদি কোনো ভেজাল থেকে থাকে, তবে তার দায় খুচরা বিক্রেতাদের নয়, বরং উৎপাদনকারী চাষিদের।
চিকিৎসকদের মতে, কৃত্রিম চিনি ও রাসায়নিকযুক্ত ভেজাল মধু নিয়মিত খাওয়ার ফলে মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গ স্থায়ীভাবে বিকল বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
লিভার বা যকৃৎ ভেজাল মধুতে ব্যবহৃত হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ এবং কৃত্রিম উপাদানগুলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমায়। এর ফলে ফ্যাটি লিভার এবং কালক্রমে লিভার সিরোসিস বা লিভার বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়। কেমিক্যাল ও ঘন চিনির শিরা ফিল্টার করতে গিয়ে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এই ভেজাল মধু খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে কিডনি ড্যামেজ হতে পারে।
নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে ভেজালকারীদের কঠোর শাস্তি ও জরিমানা এবং লাইসেন্স বাতিল করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন