চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রথমে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে প্রচার পাওয়া গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে নিহতের দেবরের স্ত্রী কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩) কে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিজের বড় ভাসুরের স্ত্রী (জ্যা) রিগান আক্তার মিমকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পারিবারিক ঈর্ষা ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে ওঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বার্ত্তলা মহল্লার বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিম মৃত সেলিম বেপারীর ছেলে সাইফুল আলম রনির স্ত্রী। তিনি আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল। ঘটনার পর কাজী সুমাইয়া নিজেই ডাকাতির নাটক সাজিয়ে নিজেকে আহত দাবি করেন এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হামলার বর্ণনা দেন। কিন্তু ঘটনাস্থলের আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তার বক্তব্যের অসঙ্গতি বিশ্লেষণ করে পুলিশের তদন্তকারী দল দ্রুত হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং পরে আদালতেও একই বক্তব্য দেন। ঘটনার রাতে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে মিমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ছুটে এলে দুই শিশু সন্তানকে ঘিরে তাদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের স্বামী সাইফুল আলম রনি শুরু থেকেই সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক টিম তদন্তে নামে। ঘটনাস্থলের আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। ডাকাতির গল্প সাজিয়ে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ তা ব্যর্থ করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। আদালতে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা নং-২৫, তারিখ ১৫ই জুলাই ২০২৬ দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ। এদিকে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের পর নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের তৎপরতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের তদন্তকে দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
শাহরাস্তিতে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই গৃহবধূ মিম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
১৭ জুলাই (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
