আরও একবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল থ্রি-লায়নরা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে শেষ মুহূর্তের নাটকে ২-১ গোলে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার এত কাছাকাছি গিয়েও এভাবে ছিটকে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এই হারের ক্ষত এতটাই গভীর যে, ২০৩০ সালের আগামী বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি নাÑ তা নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
৩২ বছর বয়সী এই বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এটি বড্ড তাড়াহুড়ো হয়ে যায়। আমার জন্য এখনকার সমীকরণ হলো, বছর ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়া এবং আমি শারীরিকভাবে কেমন বোধ করছি তা দেখা। জাতীয় দল আমার গর্ব এবং আনন্দের জায়গা। চার বছর অনেক লম্বা সময়, আগামী গ্রীষ্মেই আমার বয়স ৩৩ হবে। তবে আপনি যদি লিওনেল মেসির দিকে তাকান, ৩৯ বছর বয়সেও সে কিন্তু সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করে যাচ্ছে।’
চলমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কেইন ইতিমধ্যে ৬টি গোল করেছেন। সামনে এখনো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি থাকায় গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ রয়েছে তার। তবে তার পথটা বেশ কঠিন। কারণ আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ৮টি করে গোল নিয়ে সবার ওপরে আছেন। দুজনই আরো একটি করে ম্যাচ পাবেন। ইংল্যান্ড প্রথমার্ধ গোলশূন্য রেখে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয়। তবে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে সব ওলটপালট হয়ে যায়। এঞ্জো ফার্নান্দেজ এবং ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ম্যাচ জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
পরাজয়ের হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি কেইন। দলের ব্যর্থতা নিয়ে তিনি অকপটে বলেন, ‘বলার মতো আর কিছুই নেইÑ সবাই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছে। যখন আপনি ফাইনালের এত কাছে, মাত্র ১০ মিনিট দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং ম্যাচটি হাত থেকে ফসকে যায়, তখন ছেলেদের বিধ্বস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা ৬০ মিনিট দারুণ খেলেছি। তবে এরপর বলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি।
গত ৪-৫টি টুর্নামেন্ট ধরে এটাই হয়তো আমাদের দলগত কমতি, যা আমাদের দ্রুত শুধরে নিতে হবে।’
আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসির ভূয়সী প্রশংসা করতেও ভোলেননি কেইন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘লিও এখনও সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করছে। আমার মনে হয়েছে ম্যাচের একটি বড় অংশ জুড়ে আমরা তাকে বেশ ভালোভাবেই সামলে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা সবসময় ঘটে- ফাইনাল থার্ডে (আক্রমণভাগে) যখনই তাদের পায়ে বল থাকে, তারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এবং আজকেও সে সেটিই করেছে। কোনো কারণ ছাড়াই যে সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় নয়, তা সে আবারও প্রমাণ করলো।’
