মেসি ম্যাজিক স্পেনের চ্যালেঞ্জ

মেসি ম্যাজিক স্পেনের চ্যালেঞ্জ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের মহাকাব্যিক জয় পেয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। রোববারের ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ওয়ালী ফয়সাল বলেছেন, স্পেনের চ্যালেঞ্জ হবে মেসি ম্যাজিক ঠেকানো। সাবেক এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘সেমিফাইনালে মেসির ডান পায়ের জাদুকরী ক্রসে অ্যাসিস্টের সহায়তায় আর্জেন্টিনা জিতেছে। আর ফাইনালে স্পেনের টিকে-টাকা ফুটবল মেসিদের জন্য কঠিনতম পরীক্ষা হবে। ইংল্যান্ড ম্যাচটি থেকে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছে ঠিকই, তবে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে গেলে মেসিদের কৌশল ও পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। এই ম্যাচে স্পেনের বড় চ্যালেঞ্জ হবে মেসি ম্যাজিক ঠেকানো। ’

গতকালের ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৫ মিনিটে ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। গোল দেয়ার পর ইংল্যান্ডের ডিফেন্সিভ হওয়ার সুযোগে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় বলেই জানান ফয়সাল। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে মেসির তৈরি করা অবিশ্বাস্য সুযোগগুলোই আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়। প্রথম ৭৫ মিনিট মেসিকে বোতলবন্দি করে রাখলেও ডান প্রান্তে সরে তিনি জাদুর ছোঁয়া দেখান। ফয়সাল বলেন, ‘ইংল্যান্ড ভাবতেও পারেনি যে মেসি এভাবে ডান প্রান্তে চলে যাবেন; কারণ ওর দিকে তো সবসময় কড়া নজরদারি থাকার কথা ছিল। কিন্তু ওই যে আমি বলি না, মেসির চোখ থেকে একটু নজর সরলেই সর্বনাশ! তাই হয়েছে। শেষ দিকে মেসি ডান দিক থেকে যেভাবে কৌশল বদল করে অ্যাসিস্ট করেছে তা অসাধারণ। ’ এই সাবেক তারকা ডিফেন্ডার আরও বলেন, ‘মেসি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন কৌশল বদলের যা চমৎকার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। সাধারণত আমরা ফুটবলাররা বল পাওয়ার আগে তিনটি বিষয় মাথায় রাখি। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে তিনি বল পাওয়ার আগেই চার, পাঁচ বা তার বেশি বিকল্প পরিকল্পনা করে ফেলেন। এতেই ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা।’

অন্যদিকে গতকাল ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি তারা। ফয়সাল বলেন, ‘ইংল্যান্ড একটা বড় ভুল করেছে। শুরু থেকে যেভাবে খেলছিল, গোল দেয়ার পরও যদি একইভাবে আক্রমণাত্মক খেলতো, তবে আমার মনে হয় না ম্যাচটি ওরা হারতো। ইংল্যান্ডের মতো একটি দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে গোল পাওয়ার পর যদি পুরো রক্ষণাত্মক হয়ে লো ব্লকে চলে যায়, তবে ধরে নেয়াই যায় যে তারা পরাজয় ডেকে আনছে। গোল করার পর যদি আপনি পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে যান, তবে প্রতিপক্ষ দল আপনার ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করতেই থাকবে। ফলে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ এবং ৯২ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।’
এই টুর্নামেন্টের শুরুতে অনেকেই ধারণা করতে পারেনি যে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবার স্বপ্নের ফাইনালে খেলবে। কিন্তু তারা দুর্দান্ত লড়াই করে আবারও ফাইনালে উঠেছে। ফয়সাল আর্জেন্টিনার এই ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন কৌশল ও দলের আমূল পরিবর্তন নিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা এবার জীবন বাজি রেখে খেলছে। দলের সবাই মেসির জন্য নিজের সবটুকু উৎসর্গ করে দিয়েছে যে, আমরা এই বিশ্বকাপটি মেসির জন্যই খেলবো। আসলে সাপোর্ট বলতে এমন একটা জিনিস বোঝায়, যা মেসি দলে থাকলে সবাই একটা আত্মবিশ্বাস হিসেবে ধরে নেয়। আ তাকে যেভাবে সবাই পাস দেয় এটি দেখার মতো। দলের সবার মধ্যে এই অসাধারণ বোঝাপড়ার কারণেই তারা যেকোনো কঠিন ম্যাচ সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। এই চ্যাম্পিয়ন মানসিকতাই আর্জেন্টিনাকে আবারও স্বপ্নের ফাইনালে নিয়ে এসেছে।’
আগামী রোববারের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের বর্তমান রাজা স্পেনের। স্পেনের বিপক্ষে এই ফাইনাল ম্যাচটি নিয়ে ফয়সাল বলেন, ‘মেসির ওপরেই নির্ভর করবে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ফাইনালটা কী করতে পারে। দুর্দান্ত জয়ের পর আর্জেন্টিনা দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে রয়েছে। মেসির যে চিন্তাভাবনা, সেটা হচ্ছে ও নিজেকে আরও বেশি পারফর্ম করা। দলের জন্য যতটুকু করা দরকার, সেটাই করে। সে মনে করে যে এটা শেষ নয়, এইটাই ওর শুরু। ৩৯ বছর বয়সী মেসির এটিই শেষ বিশ্বকাপ এবং বিশ্ববাসীর কাছে এই জাদুকর ট্রফি জিতে অমর হয়ে থাকতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক মনে হয় আমার কাছে। আর আর্জেন্টিনা দলটিকে নিয়ে বলা বেশ কঠিন; রেফারির শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত তারা যেকোনো ম্যাচের চিত্র মুহূর্তে বদলে দিতে পারে। যদিও শুরুতে তাদের নিয়ে এমনটি মনে হয়নি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন