দুই প্রজন্মের দুই প্রতিনিধি। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। যার ফুটবল ক্যারিয়ার এখন শেষের পথে। শুনছেন বিদায়ের ধ্বনি। অন্যদিকে ১৯ বছরের লামিন ইয়ামাল। যার যাত্রা কেবল শুরু। চোখে পাহাড়সমান স্বপ্ন। দুই প্রজন্মের তারকাকে এক করেছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিশ্বকাপ ফাইনাল। যেখানে প্রথমবারের মতো দুজনে মাঠের লড়াইয়ে আর্বিভূত হবেন। মাঠ কিংবা শিরোপার লড়াইয়ে এই প্রথম দু’জনের দেখা হলেও বাস্তবে তাদের পরিচয় প্রায় দুই দশকের পুরনো। ২০০৭ সালের শেষ দিকের কথা। স্পেনের ক্রীড়া সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট আর জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ মিলে আয়োজন করেছিল একটি দাতব্য র্যাফেল ড্র। কাতালোনিয়ার সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য ছিল এক বিশেষ সুযোগÑবার্সেলোনার পেশাদার ফুটবলারদের সঙ্গে একটি প্রচারণামূলক ক্যালেন্ডারের জন্য ছবি তোলার সুযোগ।
সেই র্যাফেলে ভাগ্য খুলে লামিন ইয়ামালের পরিবারের। তখন ইয়ামালের বয়স মাত্র ছয় মাস। ছবি তোলার সেই আয়োজন হয়েছিল ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে। তখন বার্সেলোনায় নিজেকে মূল একাদশের অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথে ছিলেন বিশ বছর বয়সী এক তরুণ লিওনেল মেসি। সেই ফটোশুটেই তার সঙ্গে জুটি বাঁধেন শিশু ইয়ামাল। একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বেবি বাথটাবে ইয়ামালকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন মেসি। সেই মুহূর্তে দুজনের মধ্যে র্যাফেলের সংযোগ ছাড়া আর কোনো সম্পর্কই ছিল না। ছবিগুলো ২০০৮ সালের দাতব্য ক্যালেন্ডারে প্রকাশের পর আর্কাইভেই থেকে যায় দীর্ঘদিন। বছরের পর বছর নীরবে থাকা সেই ছবি হঠাৎই ফিরে আসে আলোচনায়। ২০২৪ ইউরোর পর ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই নিজের ইনস্টাগ্রামে ছবিটি পোস্ট করেন, সঙ্গে লেখেন এক আবেগঘন ক্যাপশনÑ‘দুই কিংবদন্তির শুরু।’ মুহূর্তেই ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। যে শিশুটিকে একসময় কোলে নিয়েছিলেন মেসি, সেই শিশুই তত দিনে বার্সেলোনা আর স্পেনের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। সেই ফটোশুটের প্রায় বিশ বছর পর, বাথটাবের সেই শিশু আর কোলে নেওয়া কিংবদন্তিÑদুজনই আজ দাঁড়িয়ে আছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের মুখোমুখি প্রান্তে। একদিকে বিদায়ের ঘণ্টা বাজতে থাকা এক মহাতারকা, অন্যদিকে উদীয়মান এক নতুন সূর্য। বার্সেলোনার জার্সিতে একসূত্রে গাঁথা এই দুই ফুটবলারের বন্ধন ভাঙছে ফাইনালে। রোববার নিউ জার্সিতে যখন মাঠে নামবেন মেসি ও ইয়ামাল, তখন কি কারো মনে পড়বে সেই ২০০৭ সালের বিকেলের কথা? নীল বাথটাবে বসা ছেলেটিই যে ছিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ। আর তাকে কোলে নিয়ে বসেছিল ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি? মেসি-ইয়ামালের গল্পটা যেন বাস্তক চিত্রনাট্যেরই রূপায়ণ।
