বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। মাঠের সেই তীব্র লড়াইয়ের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুই স্তম্ভ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার গ্যারি নেভিলের করা এক বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন টটেনহ্যাম তারকা রোমেরো। নেভিলের সেই সমালোচনাকে সরাসরি ‘নির্বুদ্ধিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের আগে একটি পডকাস্টে গ্যারি নেভিল আর্জেন্টিনার দুই সেন্টার-ব্যাক রোমেরো ও মার্টিনেজকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, “ওরা বিশ্বের ‘সেরা-সবচেয়ে বাজে’ সেন্ট্রাল-ডিফেন্ডার জুটি। কারণ, কিছু কিছু মুহূর্তে তারা একেবারেই অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে, আবার ঠিক তার পরের মুহূর্তেই সবকিছু চরম চমৎকার থেকে একদম হাস্যকর পর্যায়ে নিয়ে যায়। মনে হয় যেন প্রতি ম্যাচেই ওরা নিজেদের ভুলে একটি করে গোল উপহার দেয়।”
সেমিফাইনালের ম্যাচে অবশ্য নেভিলের সেই মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন এই দুই ডিফেন্ডার। যদিও ম্যাচে দুজনেই হলুদ কার্ড দেখেছেন, তবে পুরো ম্যাচে ইংলিশ আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রাখেন তারা। পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ডকে মাত্র ২টি শট অন টার্গেটের বেশি নিতে দেয়নি লিওনেল স্কালোনির এই রক্ষণ জুটি।
ম্যাচ শেষে ডি-স্পোর্টস-এর মুখোমুখি হয়ে গ্যারি নেভিলের সমালোচনার জবাবে ক্ষোভ উগড়ে দেন ২৮ বছর বয়সী রোমেরো। তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র প্রত্যাশা হলো, আমি যখন অবসর নেব, তখন যেন এতটা নির্বোধ না হই। আশা করি আমি কোনো খেলোয়াড় বা অন্য কারও এভাবে সমালোচনা করবো না। দিনশেষে, আমরা আমাদের জাতীয় দলের জন্য সেরাটা দিচ্ছি। আমরা আবারো একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এই জার্সির মর্যাদা আমরা যেভাবে অনুভব করি, তা অন্য কেউ করতে পারবে না।’
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ কিছুটা সংযতভাবে বলেন, ‘মানুষ সবসময় আমাদের নিয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত। দেখে মনে হয় তারা এটি করতে পছন্দই করে। আর আমরা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে এর জবাব দিই- ব্যাস এটুকুই। তবে সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে।’
চলতি বিশ্বকাপে এই ডিফেন্ডিং জুটি একসঙ্গে শুরু করা ৬টি ম্যাচের মধ্যে ২টিতে কোনো গোল হজম করেননি। আগামী রোববার টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা, যেখানে চতুর্থবারের মতো বিশ্বজয়ের মিশন মেসি-রোমেরোদের।
