টানা ১৯তম দিন অনশন করছেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। অনশন ধর্মঘটে তার স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কায় দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছেন। এতে বলা হয় তার জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে অংশ নিয়ে অনশনরত ৫৯ বছর বয়সী এই সমাজকর্মী বুধবার রাতে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ নাকচ করে দিয়ে সকলকে আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকারের কোনো সাড়া ছাড়া অনশন ভাঙলে তা একটি ভুল বার্তা দেবে।
এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। হাজার হাজার মানুষের অনশন ভাঙার অনুরোধের জবাবে সোনাম ওয়াংচুক জানান, আমি যদি এখন অনশন ভেঙেও ফেলি, তবে কী পরিবর্তন আসবে? সরকারের কাছে বার্তা যাবে যে, আন্দোলনকারীদের জবাব দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ দিনের অনশন হিসেবে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। কিছুটা দুর্বলতা এবং পেশিতে ক্লান্তি থাকলেও তার হার্ট এবং শরীরের ভেতরের অবস্থা এখনো ভালো আছে। তাই অনশন ভাঙার অনুরোধ না করে তিনি আগামী ২০শে জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি’র বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যায় অংশ নেয়ার জন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা একটি পিটিশনে দাবি করা হয়েছিল যে, অনশন না ভাঙলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াংচুকের জীবনহানি ঘটতে পারে এবং এই বিষয়ে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ উদাসীন। সেই আবেদনে তাকে জোরপূর্বক খাওয়ানোর নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল। গত ৩রা মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই অনশন কর্মসূচি চলছে। অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াংচুক বলেন, আমরা সবাই মিলে এই বিষয়টি সংসদ সদস্যদের হাতে তুলে দেবো।
