বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও টমাস টুখেলের ওপর থেকে আস্থা হারায়নি ইংলিশ ফুটবল এসোসিয়েশন (এফএ)। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় ইউরো-২০২৮ পর্যন্ত দলের দায়িত্বে বহাল থাকছেন এই জার্মান কোচ। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ, আর ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের হেডের গোলে জয় নিশ্চিত হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচ শেষে আইটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে টুখেলকে প্রশ্ন করা হয়, ভালো দলই জিতেছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না। আমার মনে হয়েছে, আমরা ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার যোগ্য ছিলাম। কিন্তু গোল করার পর ম্যাচের গতি বদলে যায়। তখন তাদের হারানোর কিছু ছিল না, আর আমরা এমন খেলতে শুরু করি যেন হারানোর অনেক কিছু আছে। তারা ক্রমেই বেশি ঝুঁকি নিতে থাকে এবং শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়।’
কোথায় ভুল হয়েছে- এই প্রশ্নের জবাবে টুখেল বলেন, ‘চাপ থেকে বেরিয়ে আসার মতো পর্যাপ্ত সময় আমরা বল নিজেদের কাছে রাখতে পারিনি। আমরা সবকিছু চেষ্টা করেছি, কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারিনি। বিষয়টা এমন ছিল যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। গোল করার পর থেকেই এটি শুরু হয়েছিল এবং মূলত এ কারণেই আমরা ম্যাচটি হেরেছি। গোল করার আগ পর্যন্ত আমরাই ভালো দল ছিলাম। কিন্তু গোলের পর আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। তারা অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়েছে, আর তাদের দলে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে।’ ৭১ মিনিটে গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে এজরি কনসাকে নামিয়ে দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে টুখেলের ব্যাখ্যা, ‘আমরা বদলি করার পর নয়, গোল করার পর থেকেই নিচে নেমে খেলছিলাম। এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কোচিং নিয়ে কথা বলা খুব সহজ। ফলাফলই সবকিছু বলে দেয়। অন্য কোনো বদলি করলে কী হতো, সেটা কেউ বলতে পারে না। আমি মনে করেছি, প্রতিপক্ষের বারবার ক্রস ঠেকাতে আমাদের পাঁচজনের রক্ষণভাগ দরকার ছিল।’
রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়দের ফাঁকা জায়গা দিয়ে উঠে আসা থামাতে পারিনি। ওই মুহূর্তগুলোতে আমরা যথেষ্ট শারীরিকভাবে শক্ত ছিলাম না। এটা শুধু দলের কাঠামোর বিষয় নয়। যেকোনো কাঠামোতে নিচে নেমে রক্ষণ করা যায়, যদি সবাই সক্রিয় থাকে। কিন্তু আমরা খুবই নিষ্ক্রিয় ছিলাম।’ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে টুখেল বলেন, ‘আমার কোনো অনুশোচনা নেই। আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। হার মেনে নেয়া কঠিন, কারণ আমরা হারতে ঘৃণা করি। আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। পুরো বিষয়টি নিয়ে মূল্যায়ন করতে হলে আমাদের একটু সময় নিতে হবে এবং সবকিছু ঠাণ্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করতে হবে।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টুখেলের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছিল এফএ। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও টুখেলকেই দায়িত্বে রাখতে চায় ইংলিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এফএর প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহাম বলেন, ‘এত কাছে গিয়েও এভাবে হেরে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। খেলোয়াড় ও টমাস আজ নিজেদের সবটুকু দিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে দল, কোচ ও স্টাফরা অসাধারণ পরিশ্রম করেছেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা, যাদের সমর্থন আমরা প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেছি।’
দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে টুখেল বলেন, ‘বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি। আমাদের ফ্রান্সের বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচ খেলতে হবে। যদিও এই ম্যাচের জন্য আমাদের আবেগ কিছুটা কম, তবুও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। এরপর আমরা আমাদের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবো। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরো পর্যন্ত আমার চুক্তি রয়েছে এবং আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। যদিও এই মুহূর্তে এত দূরের কথা ভাবা কিছুটা কঠিন।’
