মানসিক যন্ত্রণা আর প্রেসার সহ্য করতে পারছি না, তাই আমরা এমন কোথাও চলে যাচ্ছি আর কোনোদিন ফিরে আসবো না এমন চিরকুট লিখে বাগেরহাটে শরণখোলায় কবির হাওলাদার (৩২) ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম (২৫)-এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ কেউ বলছে চালের ভেতরে দেয়া ওষুধ খেয়ে তারা আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কবির রাজৈর গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
শরণখোলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। স্বামী-স্ত্রীর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। কেউ কেউ বলছেন স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করে একইসঙ্গে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন দেনার দায়ে আত্মহত্যা করেছেন। মেয়ের বাবা বাবুল হাওলাদার বলেন, ১৩ বছর আগে তার মেয়েকে কবিরের সঙ্গে বিবাহ দিয়েছেন। সংসারে ৭ বছর একটি মেয়ে ও দেড় বছর একটি ছেলে রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের উপরে নির্যাতন করে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে। গত দুইদিন আগেও তার মেয়ে ফোন দিয়ে জানিয়েছে বাবা আমাকে ও মারধর করেছে টাকার জন্য। তবে কবিরের বাবা আব্দুল মজিদ জানান তার ছেলে চট্টগ্রামে স্ত্রীসহ চাকরি করতো সেখান থেকে কিছু টাকা তার স্ত্রীর কাছে দিয়েছে যা তার বাবার কাছে জমা দিয়েছে সেই টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্যে প্রায় ঝগড়াঝাটি হতো। তবে কীভাবে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছেন তিনি তা জানেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হালিমার এক আত্মীয় বলেন, কবির গত ২/৩ মাস ধরে কিছুটা নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি হতো। শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে সুরতাহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহত নারীর চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে কবিরের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একটি চিরকুট পাওয়া গেছে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা আত্মহত্যা করতে পারে। তবে ময়নাতদন্তে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় শরণখোলায় থানায় দুইটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
