ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ দশমিক ৭৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেট ঘোষণা করেন ডিএনসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। প্রস্তাবিত বাজেটের ৩ হাজার ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় এবার ঢাকা উত্তর সিটির হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ (প্রারম্ভিক স্থিতি) কমেছে। গত অর্থবছরে এই স্থিতি ছিল ৮৫০ কোটি টাকা, চলতি প্রস্তাবে তা নেমে এসেছে ৬৬০ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়, অর্থাৎ প্রায় ১৯০ কোটি টাকা কম।
বাজেটের প্রায় ৬৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ হাজার ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নে। এ খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং উন্নয়ন বাজেটের ৪৫ শতাংশেরও বেশি।
বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে। রাজস্ব ও উন্নয়ন- দুই খাত মিলিয়ে এ বাবদ মোট বরাদ্দ ৫১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশ। আর মশক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ২০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের হোল্ডিং, পরিচ্ছন্নতা, লাইটিং ও স্বাস্থ্য কর খাত থেকে মোট রাজস্ব আয়ের ৪৭ শতাংশ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ১ হাজার ২১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর কর খাত থেকে ৭৫০ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ট্রেড লাইসেন্স, সড়ক খনন ফি, বিজ্ঞাপন কর, গরুরহাটসহ অন্যান্য খাত এবং সরকারি ও বৈদেশিক অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে নগরবাসীর উন্নয়ন, রাজস্ব আদায় ও বাস্তবায়নসহ বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে এ বছর একটি যুগোপযোগী বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমূলক বাজেট গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় স্বল্প সংখ্যক বাজেট নিয়েও নগরবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারসহ ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ, সফলভাবে হামের টিকা প্রদান, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণসহ আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফলতা অর্জন করেছি।
