মালয়েশিয়ার মাটিতে কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি ধরা পড়লে তাকে কোনো প্রকার আপস ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার যে দীর্ঘস্থায়ী ও অনমনীয় নীতি রয়েছে, তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
দেশটির বারনামা সহ প্রায় সবকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে দ্বৈত নাগরিকত্বের নথিপত্র ব্যবহার করে কিছু ইসরাইলি নাগরিক প্রবেশ করেছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমাদের সবকটি নিরাপত্তা সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই এটি বরদাশত করব না। যদি তদন্তে এমন কোনো নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং অবিলম্বে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেয়া হবে।”
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে যে, প্রতিষ্ঠানটির কিছু কার্যক্রমের সাথে ইসরাইলি নাগরিকরা জড়িত রয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জোহরের মুখ্যমন্ত্রী (মেন্তেরি বেসার) ওন হাফিজ গাজি দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিরা সরাসরি ইসরাইলি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন বলে লিখেছে মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদ মাধ্যম বারনামা।
দেশটির প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ড. জাম্বরি আব্দুল কাদির খুব শীঘ্রই এই তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।
