যুক্তরাষ্ট্র সফররত দৈনিক মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরীকে ঘিরে প্রবাসী সাংবাদিকদের মিলনমেলা বসেছিল নিউ ইয়র্কে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ঘরোয়া এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক, গণমাধ্যম কর্মী এবং বিশিষ্টজনরা। স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর গণমাধ্যমভিত্তিক আলোচনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠে এই আয়োজন। মতিউর রহমান চৌধুরীর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অনেক সহকর্মী আলোচনায় অংশ নেন। তারা তার কর্মময় জীবনের নানা দিক এবং সাংবাদিকতা দর্শনের ওপর আলোকপাত করেন। আবেগে আপ্লুত হন নানা স্মৃতিচারণ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মতিউর রহমান চৌধুরী কেবল একজন সম্পাদক নন, তিনি একাধারে একজন অভিভাবক এবং সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃত। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে অনেকেই নিজেদের সাংবাদিকতা জীবনের সেরা সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। সত্যনিষ্ঠ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপসহীন থাকার ক্ষেত্রে মতিউর রহমান চৌধুরী সবসময় তরুণ সাংবাদিকদের পথ দেখিয়েছেন। নিজে সাহসী সাংবাদিকতা করেছেন, অন্যদের সাহসী সাংবাদিকতায় উৎসাহ দিয়েছেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতার জায়গা। সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো এই সময়গুলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আমাকে সবসময় নতুন করে কাজ করার সাহস জোগায়। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিকের আসল পরিচয় হওয়া উচিত তিনি সাংবাদিক।
সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা নানা ভাগে বিভক্ত। এমনকি দেশের স্বার্থেও তারা ঐক্যবদ্ধ নন। তেমনি সাংবাদিকদের মধ্যেও এমনটা দেখা যায়। রাজনীতি পেটে থাকুক । প্রকাশের কী দরকার! কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে- আমরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার আগে রাজনৈতিক পরিচয় দিতেই বেশি ভালোবাসি। এসব কারণেই আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি পাল্টাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ৫৫ বছরের বাংলাদেশ। এই সময়ে পৃথিবীতে অনেক দেশ স্বাধীন হয়েছে। তারা কেউ পেছনে পড়ে নেই। সবাই এগিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা একে অপরকে পেছন থেকে টানছি শুধু।
তিনি বলেন ‘আগামীতে বাংলাদেশের সামনে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ আছে। নতুন সরকার আসার পর নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি এখনও পুরোপুরি ঠিক হয়নি, অস্থিরতা বিরাজমান। আমাদের রাজনীতি আমরা ঠিক করি না, অন্যরা ঠিক করেন। আমরা নিয়ন্ত্রিত হই। এই নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হতে না পারলে বাংলাদেশ সঠিক পথে যাবে না। আমরাও সঠিক বাংলাদেশ পাব না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবজমিন সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করায় সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান । প্রবাসে থেকেও সাংবাদিকতা চর্চা করে যাওয়ায় উপস্থিত সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও আজকালের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর মনোয়ারুল ইসলাম এবং মানবজমিন এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল নওশাদের যৌথ উপস্থাপনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. এম. শাহীন, আজকাল সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবাসায়ী শাহ নেওয়াজ, প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, নারী নেত্রী অধ্যাপিকা হুসনে আরা, প্রবীণ সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, ঠিকানার বার্তা সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, এনটিভি উত্তর আমেরিকা ব্যুরো প্রধান ফরিদ আলম, সিনিয়র সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী নিহার সিদ্দিকী, দৈনিক আজকের পত্রিকার সাবেক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম লুতু, সিনিয়র সাংবাদিক দর্পণ কবীর, শওকত ওসমান রচি, মুজাহিদ আনসারী, আজকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রানো নেওয়াজ, এনওয়াই কাগজের সম্পাদক আফরোজা ইসলাম, ঠিকানার সিনিয়র সাংবাদিক নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখিকা মনিজা রহমান, প্রথম আলোর নিউইয়র্ক প্রতিনিধি তোফাজ্জল লিটন, ঠিকানা টিভির সিনিয়র রিপোর্টার আপেল মাহমুদ, সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, মূলধারার রাজনীতিক মেরি জোবাইদা, নাসিমা আক্তার শাহানা, সিনিয়র সাংবাদিক অনিক রাজ, হাসান মাহমুদ, সায়েম আহমেদ, ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক, কার্টুনিস্ট টিপু আলম প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় মতিউর রহমান চৌধুরী ও মাহবুবা চৌধুরীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। শুরুতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দৈনিক মানবজমিনের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান সুমন ।
