গোল করানোর শিল্পী লিওনেল মেসি

গোল করানোর শিল্পী লিওনেল মেসি

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল মাঠে গোল করাটাই শেষ কথা নয়। কারো কারো কাছে অন্যকে দিয়ে গোল করানোটাই আসল শিল্প। লিওনেল মেসি সেই শিল্পের সবচেয়ে বড় কারিগর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের মালিক এখন তিনিই।


সংখ্যাটা ১২। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে এত অ্যাসিস্ট আর কারো নেই। মেসি যে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন, প্রতিটিতেই অন্তত একটি করে গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতাই তাকে আলাদা করে দেয় বাকি সবার থেকে। শুরুটা ২০০৬ সালে। সার্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের বড় জয়ে একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তরুণ মেসি। তবে সেবার আর কোনো অ্যাসিস্ট করতে পারেননি খুদে জাদুকর। ২০১০ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোয় আরেকটি। ২০১৪ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। আবারও শেষ ষোলোতেই। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই নাটকীয় ৪-৩ ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি। তারপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারের সেরা বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্টও ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনটি। গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আরেকটি। আর সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ছুটে গিয়ে জোসকো ভারদিওলকে একা বোকা বানিয়ে বল বাড়িয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজের দিকে। ৩-০ গোলের সেই জয়ে আর্জেন্টিনা পৌঁছে গিয়েছিল ফাইনালে। সেই যাত্রা চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে। শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান মেসি, ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে বল বাড়িয়ে। এই অ্যাসিস্ট দিয়েই তিনি ছুঁয়ে ফেলেন এবং ছাড়িয়ে যান আগের রেকর্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কর্নার থেকে বল বাড়ান। গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটা বোধহয় সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া অ্যাসিস্টে ম্যাচে ফেরান মেসি। আর্জেন্টিনা পৌঁছে যায় টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে। এই মুহূর্তগুলোই বলে দেয়, মেসি কেবল গোল করেন না, দলকে বাঁচাতে জানেন। মেসির ঠিক পরেই আছেন আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি, দিয়েগো মারাডোনা। আট অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন