নব্বইয়ের দশকে গতির ঝড় তুলে ভারতীয় ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরাতেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত শোয়েব আখতার। ক্যারিয়ারের সেই সোনালি দিনগুলো নিয়ে এবার এক বিস্ফোরক ও চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করলেন এই পাক পেসার। ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য তিনি এবং সতীর্থ সাকলাইন মুশতাক গোপনে পিল ও ইনজেকশন নিতেন বলে স্বীকার করেন আখতার।
১৯৯৮-৯৯ সালের সেই ঐতিহাসিক ভারত সফরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শোয়েব আখতার জানান, সেই সময় তিনি এবং অফস্পিনার সাকলাইন মুশতাক দুজনেই গুরুতর হাঁটুর সমস্যায় ভুগছিলেন। ইনজুরি এতটাই প্রকট ছিল যে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাই ছিল দায়। আখতার বলেন, ‘আমার হাঁটু ফুলে থাকত, ভেতরে তরল জমে যেত। সাকলাইনের হাঁটু ১৯৯৬ সালেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, আর আমারটা ১৯৯৭-এ। আমরা দুজনই গোপনে পিল আর ইনজেকশন নিতাম, শুধু ম্যাচ খেলতে পারার জন্য।’
শারীরিক অবস্থার কথা দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দেরও জানতে দেননি তারা। আখতারের দাবি, তৎকালীন পাকিস্তান দলের সিনিয়ররা যদি সাকলাইনের ইনজুরির কথা জানতে পারতেন, তবে তাকে দল থেকে বের করে দেয়া হতো। তাই ক্যারিয়ার বাঁচাতে এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে দেশের মান রাখতে শরীরের ওপর এমন ঝুঁকি নেন এই দুই তারকা।
সেই সময় ভারতীয় ব্যাটিং ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারকে আউট করা ছিল পাকিস্তানি বোলারদের জন্য পরম আরাধ্য। শোয়েব জানান, শচীনের উইকেট নেওয়া নিয়ে সাকলাইনের সঙ্গে তার রীতিমতো বাজি চলতো। আখতার স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘সাকলাইন বলত, শচীনকে সেই আউট করবে। আমি বলতাম, না, এবার আমার পালা। ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানো এবং শচীনের উইকেট পাওয়া ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয় না। বর্তমানে কেবল আইসিসি বা এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্টেই দুই দলের দেখা মেলে।
