৬ মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহত ১৩৩

৬ মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহত ১৩৩

ফন্ট সাইজ:

গত ৬ মাসে সারা দেশে মব-সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫৬ জন। গত মঙ্গলবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এই তথ্য প্রকাশ করে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা কারণ দেখিয়ে এ সকল গণপিটুনি ও মব-সহিংসতার ঘটেছে। ২০২৫ সালের একইসময়ে এ ধরনের ১৪১ ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহত ও ১১৯ জন আহত হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএস’র সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এসব তথ্য সংকলন করা হয়।

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর ৫০টি হামলার ঘটনায় ৫৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ১৯টি মন্দির, ১৫টি প্রতিমা ও ৪৩টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। জমি দখলের ৪টি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর ১০টি হামলায় ৪ জন আহত হয়। ওই বছর ১টি মন্দির, ১১টি প্রতিমা ও ১৮টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে গত ছয় মাসের শ্রমিক নির্যাতনের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ছয় মাসে ৩৩১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত ও ১ হাজার ৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে ১১২টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৫৯ জন নিহত ও ৭২০ জন আহত হন।

এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে ও দুর্ঘটনায় ২১৬ শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। ২০২৫ সালে একই কারণে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলনের সময় এ বছর ২৬ শ্রমিককে আটক করা হয়। এছাড়া ২ জন গৃহকর্মী নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া, দুই গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এইচআরএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি দেশের সব নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনকে সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন