দীর্ঘ ৮ বছরেও সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ আজও শুরু হয়নি। অথচ শুধু পরামর্শক (কনসালটেন্সি) খাতের ব্যয়ই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রথম অনুমোদনের সময় যেখানে বরাদ্দ ছিল ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সেখানে সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু পরামর্শক ব্যয় বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশনও।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পরামর্শক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের যৌক্তিকতা জানতে চান কমিশনের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে কেন পরামর্শক ব্যয় এত বেশি বাড়ানো হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের অর্থায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন, বিদেশি ঋণদাতা সংস্থার শর্ত, অতিরিক্ত কারিগরি তদারকি এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ার কারণে পরামর্শক ব্যয় বেড়েছে। এতে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যয়ের প্রতিটি খাতের যৌক্তিকতা নতুন করে যাচাই করা প্রয়োজন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন হয়। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যা ২০২৩ সালের জুনের মধ্যেই বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন বছর আগে। এই সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ তো দূরের কথা, ভূমি অধিগ্রহণও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রিতা, জমির মূল্যবৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, নতুন অবকাঠামো সংযোজন এবং অর্থায়নের ধরন পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ অনুমোদনের সময়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি।
সূত্র মতে, শুরুতে ভারতীয় ঋণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ঋণ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে প্রকল্পের নকশা, অর্থায়ন কাঠামো এবং কিছু কারিগরি বিষয়ও নতুন করে পর্যালোচনা করতে হয়েছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পরামর্শক ব্যয়। এতে মূল অনুমোদনের সময় পরামর্শক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এখন সেই ব্যয় বাড়িয়ে ২৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এই একটি খাতেই ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রকল্পটি বাস্তব অগ্রগতির মুখ দেখছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ অংশে যৌথ তদন্তসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ক্ষতিপূরণ প্রদান চলমান। জমি বুঝে পাওয়া গেলে দরপত্র আহ্বান এবং মূল নির্মাণকাজ শুরুর প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারের ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ স্বচ্ছভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মাঝে দেয়া হচ্ছে। মূলত ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে জটিল কাজ হচ্ছে মালিকানা যাচাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি। এই কাজটি সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত জমি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
