রাজধানীর বংশালে একটি সেলুনের দোকানে এসি বিস্ফোরণ হয়ে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে গুলিস্তান আলুবাজারের আরমান সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেনÑ সেলুনের কারিগর সামশেদ (৩০), রাজু (৩৪), পাপ্পু (২৬) আরমান (৩৭), সাকিব (১৭)। এ ছাড়াও মো. ফারুক (৩৫), রিংকু (৩০), রনি (৩৬), জসিম (৪০), রফিক (২৫) নামে আরও পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
বিস্ফোরণের সময় সেলুনে কাজ করা মো. সাকিব নামে এক কর্মচারী বলেন, বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি বাজার হওয়ায় আমাদের এলাকায় সারা রাতই প্রচুর লোকসমাগম হয়। এজন্য আমাদের সেলুনও বেশির ভাগ দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মঙ্গলবারও ঠিক তেমনই দোকান খোলা ছিল। অন্যদিনের মতো আমরা সেলুনে কাজ করছিলাম। অবশ্য অন্য সময় আমাদের সেলুনে সাতজন কাজ করলেও মঙ্গলবার রাতে আমরা কাজে ছিলাম পাঁচজন। একজন ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিল। আরেকজন ঘটনার সময় কিছু একটা আনতে বাইরে গিয়েছিল। আমাদের পাঁচজনের চেয়ারে পাঁচজন কাস্টমার ছিলেন। আমরা সকলেই তাদের চুল কাটছিলাম। এর মধ্যেই হঠাৎ এসিতে শব্দ শুরু হলো। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিকট শব্দে এসি বিস্ফোরণ হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি ওই বিস্ফোরণে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মো. ফারুক ও মো. রিংকু নামে দুই কাস্টমার ঠিক এসি’র সামনেই চেয়ারে বসে ছিলেন। তারা দু’জনই বেশি আহত হয়েছেন। ফারুক নামে ওই কাস্টমারের শরীরের প্রায় বেশির ভাগ অংশই দগ্ধ হয়ে গেছে। তার অবস্থা ভালো না। রিংকু ভাইয়েরও তাই। সাকিব বলেন, বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজন এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে এখানে আমাদের সকলকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে বংশাল আলুবাজার এলাকা থেকে দগ্ধ হয়ে মোট ১০ জনকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দগ্ধ ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি একজনকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে অবজারভেশনে থাকা ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হবে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।
পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম মাহফুজুল হক বলেন, এটা আসলে একটা দুর্ঘটনা। আর দোকানের মালিকসহ ভুক্তভোগী সকলেই বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তাই এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি।
এদিকে, বুধবার সকালে দগ্ধদের দেখতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য যেকোনো ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে এসি ব্যবহারকারীদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
