হঠাৎ দৃশ্যপটে আ ন ম জামান চৌধুরী। রাতারাতি ভাইরাল। মুহূর্তে নেট দুনিয়া সয়লাব। তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঘটনায় যখন খাদেমরা অন্তরালে তখনই ভেসে উঠেন তিনি। নেন মাজারের পক্ষ। ডিসি সারওয়ার আলমের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ান। খাদেমরা ইশরায়, ইঙ্গিতে জানিয়ে দিতেনÑযা বলার জামানই বলবেন। ডিসি সারওয়ার আলম চলে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে শান্ত হয় পরিবেশ। জামানও দৃশ্যপটের বাইরে যেতে শুরু করেন। কিন্তু ফের আলোচনায় তিনি। এবার তিনি মাজারের শিরনি খাতের লুটপাট নিয়ে কথা বলছেন। তার এই বক্তব্যও ভাইরাল। ভেসে বেড়াচ্ছে নেট দুনিয়ায়। নতুন খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। তাকে বলা হচ্ছে ‘পল্টি জামান’। হঠাৎই কেন ইউটার্ন। এ ব্যাপারেও তার বক্তব্য সোজা। এটি এখনকার বক্তব্য নয়। তখনকার, যখন মাজার নিয়ে পরিস্থিতি সরব। সাংবাদিকরা নিয়েছিলেন। প্রচার করেননি। এখন করছেন।
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের অধিবাসী জামান চৌধুরী। পেশায় তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। বসবাস করেন নগরের সুবিদবাজার এলাকায়। আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান তিনি। এই সংগঠনের নাম এতদিন কম লোকেই জানতো। মাজারকেন্দ্রিক ঘটনায় তিনি যখন প্রকাশ্যে আসেন তখন চাউর হয় তার সংগঠনের নাম। খাদেম পক্ষের দাবি; জামান মাজারের কেউ নন। তার সংগঠনের কার্যক্রমও মাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তিনি আসেন, যান। মাঝে মধ্যে চা-পানি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এতটুকুই তার সঙ্গে খ্যাতির। অফিসের দায়িত্বে থাকা সামুন মাহমুদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। মাঝে-মধ্যে খাতির যত্ন করেন সামুন। ডিসি সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে ঝড় তুলেছিলেন জামান। দরগাহের ঘটনা পরিক্রমায় ডিসি সারওয়ার নাছোড়বান্দা। দানবাক্স নিজের হস্তক্ষেপে নেবেনই। এ নিয়ে দরগাহে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ। আলোচনার টেবিল থেকেই পিছু হটলেন মাজার কর্তৃপক্ষ। দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেন ঢাকায়। ১৮ই জুন ডিসি নিজেই মাজারে গেলেন। দানবাক্স, ডেগ সিলগালা করলেন। ঘটনায় যখন মাজার কর্তৃপক্ষের মুখে কুলুপ আঁটলেন তখনই হঠাৎ দৃশ্যপটে জামান। ওইদিন থেকে তিনি মাজারের পক্ষে কথা বলা শুরু করেন। ডিসি’র কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। ডিসি’র পক্ষে তখন অনেকেই মাঠে। তারাও অবাক হলেন। জামানকেও ছাড় দিলেন না। জামানকে ঘিরে নানা কথাবার্তা, জল্পনাও। এতে ভ্রƒক্ষেপ করেননি জামান। এমন সময় প্রাণনাশের হুমকিরও অভিযোগ তুলেন। সেই জামানের একটি বক্তব্য নতুন করে নেট দুনিয়ায় সয়লাব।
এবার তার বক্তব্য মাজারের খাদেম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। ক্ষোভের সঙ্গেই জানালেন নানা অভিযোগ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি বললেন, ৭০০ বছর ধরে খাদেমদের বুঝাচ্ছে মানুষ। দানের গরু, খাসি ঘরে নিয়ে যাবেন না। যদি দানের এই গরু, খাসি দিয়ে লঙ্গরখানা চলতো তাহলে তাদের ওপর মানুষ এত ক্ষুব্ধ হতো না। ওরসে ৪০টি গরু দিয়ে শিরনি হয়। ৩০০ পরিবার গোশত দেখে দেখে ৩০০ টুকরি শিরনি বাড়ি নিয়ে যান। এরপর শুধু পোলাও থাকে। সবাই পায়ও না। তিনি দাবি করেনÑখাদেম গোষ্ঠীর সঙ্গে বহু বছরের ক্ষোভ জমা পড়েছে। আর তাদের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভের কারণে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ জামানের বক্তব্যে বিব্রত খাদেম পক্ষও। এই বক্তব্য প্রচারের পর ডিসি’র পক্ষের লোকজন তাকে নিয়ে নতুন করে ট্রল করছেন। হঠাৎ কেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন জামানÑএ প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেই বলেনÑ এই বক্তব্যটি এখনকার না। দুই সপ্তাহের আগের। মাজারের শিরনি নিয়ে কিছু অনিয়ম হচ্ছে সত্য। সেটি বলেছি। তবে যেভাবে বলেছি সেভাবে প্রচার করা হয়নি।
এ কারণে এই ট্রল হচ্ছে। তিনি নিজেও দাবি করেনÑমাজারের কেউ নন। মাজার থেকে সুবিধা ভোগীও নন। ডিসি সারওয়ার আলমের কাছে মাজার নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সেই প্রস্তাব দেখে তিনি প্রথমে ‘লাভ’ চিহ্ন দেখিয়েছিলেন। পরে সেটি মুছে দেন। এ কারণে তিনি ডিসির কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সমালোচনায় নামেন বলে জানান। জানানÑডিসি তার প্রস্তাব গ্রহণ করলে এতে বেশি সমালোচনা হতো না। ডিসি সিলেটকে বিভক্ত করে গেছেন বলে মন্তব্য করেন জামান। আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ সংগঠন সম্পর্কে জামান বলেনÑএই সংগঠন ২০১৯ সালে গঠন করা হয়েছে। প্রথমে সাড়া পাইনি। গত ১২ই এপ্রিল নতুন কমিটি হয়েছে। সেখানে ৩৬০ জন সদস্য হয়েছেন।
