লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান (১১) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পরদিন প্রকাশিত হয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল। এ ফলে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে মিজান। কিন্তু যে সংবাদটি পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের জন্য আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান জানান, ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে বিদ্যালয় শতভাগ সাফল্য অর্জন করে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।
তিনি বলেন, ফলাফল প্রকাশের পর মিজানের বৃত্তি পাওয়ার খবর শুনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউই আনন্দ করতে পারেনি। বিদ্যালয় জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। মিজানের বাবা মো. রাছেল মিয়া জানান, কয়েকদিন ধরে ছেলের জ্বর ছিল। পরে দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলে তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রস্রাবে সংক্রমণ ও রক্তস্বল্পতার কথা জানান। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে ১১ই জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান বলেন, মিজানুর রহমান অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমরান হোসেন জানান, ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাকে অবহিত করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান মৃত শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
