চার সাংবাদিকের মুক্তির আহ্বান ৫ আন্তর্জাতিক সংস্থার

চার সাংবাদিকের মুক্তির আহ্বান ৫ আন্তর্জাতিক সংস্থার

ফন্ট সাইজ:

সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা। তাদের দাবি, সাংবাদিকতার কাজ বা সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা আন্তর্জাতিক আইন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। একই সঙ্গে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুসহ বিচার-পূর্ব আটকাবস্থায় (প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন) থাকা চার সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস: ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ৫ থেকে ৬ই মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। ওই অভিযানে কতোজন নিহত হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

সংস্থাগুলো জানায়, গত ১৪ই মে ২০২৬ ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় রূপা ও বাবুকে গ্রেপ্তার দেখায়। তবে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ পর্যন্ত তাদের আইনজীবীরা তদন্তের কোনো প্রমাণ বা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) পাননি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, অভিযোগের একটি অংশ ফারজানা রূপার উপস্থাপিত একটি সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে শাপলা চত্বরের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের মতে, ওই সম্প্রচার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফারজানা রূপা, তার স্বামী ও একাত্তর টিভির সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু এবং ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া অসংখ্য হত্যা মামলায় একই বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন।
সংস্থাগুলোর দাবি, এসব মামলার কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশন কীভাবে হত্যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক সনদের (আইসিসিপিআর) ১৫ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশ ওই সনদের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে এসব অধিকার রক্ষার বাধ্যবাধকতা বহন করে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন