জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) ২০২৮-২০২৯ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু করেছে ভারত। আগামী বছরের জুনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের একটি আসনের জন্য তাজিকিস্তানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দেশটি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে স্থানীয় সময় সোমবার এ প্রচারণার উদ্বোধন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রচারণা বক্তব্যে জয়শঙ্কর গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
ভারতের এবারের প্রচারণার প্রতিপাদ্য ‘শান্তি’। নয়াদিল্লির ভাষ্য, নিয়ম, আস্থা ও সততার ভিত্তিতে শান্তি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের প্রচারণার মূল বার্তা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভিত্তিতে নির্বাচিত ১০টি অস্থায়ী সদস্য দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করে। ভারত এর আগে ২০২১-২০২২ মেয়াদে পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ছিল। একই সঙ্গে পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যসংখ্যা বাড়ানো এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিও দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে দেশটি।
প্রচারাভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব ক্রমবর্ধমান সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ এবং নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচিত হলে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে ভারত।’
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন মোকাবিলা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে ভারত।’ পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় ভারতের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
