ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার শুনানিতে আইনজীবীদের তুমুল বাগবিতাণ্ডা, শুনানি স্থগিত

ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার শুনানিতে আইনজীবীদের তুমুল বাগবিতাণ্ডা, শুনানি স্থগিত

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে মামলার শুনানিতে প্রধান দুই আইনজীবীর মধ্যে তীব্র বাগবিতাণ্ডা হয়েছে। এতে এক পর্যায়ে আদালতের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন বিচারকরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, তারা সতর্ক করে দেন- এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বিচারপ্রক্রিয়া থেকেই সরিয়ে দেয়া হতে পারে। মঙ্গলবার ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক দলের বিরুদ্ধে চলমান মামলার শুনানিতে এক সাক্ষীর জবানবন্দির সময় এই ঘটনা ঘটে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

শুনানি সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পরও আদালতের বাইরে দুই আইনজীবীর বাকবিতণ্ডা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে তারা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করতে থাকেন। তাদের ঘিরে ছিলেন অন্যান্য আইনজীবী, পুলিশ সদস্য এবং সাংবাদিকরা। ম্যারাডোনার দুই মেয়ের পক্ষে আইনজীবী ফার্নান্দো বুরলান্দো প্রতিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ফ্রান্সিসকো ওনেতোকে উদ্দেশ করে বলেন, আমি এখানেই আছি। তুমি কী করবে? জবাবে ক্ষুব্ধ ওনেতো বলেন, তুমি একটা ভাঁড়। বুরলান্দো পাল্টা বলেন, তুমিই একজন বোকা।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আগেই একজন প্রসিকিউটর ও এক পুলিশ কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করেন। তারা ওনেতোকে প্রায় ১০ মিটার দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। ফলে হাতাহাতির পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। ঘটনার সূত্রপাত আদালতের ভেতরেই। দুই আইনজীবীর কথোপকথনের সময় বুরলান্দো ওনেতোকে ব্যঙ্গ করে বলেন, সব জায়গাতেই মানুষ তোমার সঙ্গে চিৎকার করে। এমনকি তোমার নিজের বাড়িতেও। এর জবাবে ক্ষুব্ধ ওনেতো দাঁড়িয়ে বুরলান্দোর ডেস্কের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলেন, আমার বাড়িতে কী হয়, সেটা তুমি কী করে জানো? সম্মান করতে শেখো। বাইরে গিয়ে এসব বলো। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই দুই আইনজীবীর তিক্ত সম্পর্ক নতুন নয়। এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়াজুড়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাপূর্ণ বাকবিতণ্ডা হয়েছে। মামলার শুনানি অন্তত আগস্টের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কী নিয়ে চলছে এই বিচার? ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, বুয়েন্স আয়ারসের উত্তরে তিগ্রে শহরের একটি বাড়িতে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় ৬০ বছর বয়সে মারা যান দিয়েগো ম্যারাডোনা। ময়নাতদন্তে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ফুসফুসে তরল জমে যাওয়া (পালমোনারি ইডিমা) এবং হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

বুয়েন্স আয়ারসের উপকণ্ঠ সান ইসিদ্রোতে চলমান এই মামলায় আদালত খতিয়ে দেখছে, ম্যারাডোনার চিকিৎসক দলের সাত সদস্য তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ও যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছিলেন কি না। তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা জানতেন বা জানার কথা ছিল যে তাদের কর্মকাণ্ড কিংবা অবহেলা ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে সাতজন অভিযুক্তই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন