৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বরেকর্ডে ইতালিকে ছুঁলো স্পেন

৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বরেকর্ডে ইতালিকে ছুঁলো স্পেন

ফন্ট সাইজ:

ফরাসিরা সৌরভ ছড়াতে পারলো না। ফুটবলীয় মুর্ছনায় দর্শক মাতিয়ে ফাইনালে উঠলো স্পেন। মঙ্গলবার রাতে ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারায় স্প্যানিয়ার্ডরা। এতে টানা অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডে ইতালিকে স্পর্শ করলো স্পেন।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে প্রীতি ম্যাচে হারের পর থেকে স্পেন আর কোনো ম্যাচ হারেনি। টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত (২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারানোর পর)। কোয়ার্টার ফাইনালে জয় দিয়ে স্পেন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার (২০১৯-২০২২) রেকর্ড স্পর্শ করে। আর ফ্রান্সকে হারিয়ে তারা ভাগ বসালো রবার্তো মানচিনির ইতালির (অক্টোবর ২০১৮ থেকে অক্টোবর ২০২১) টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম লামিন ইয়ামাল। একদিকে ‘ইউরোপিয়ান পাওয়ার হাউজ’ খ্যাত ফ্রান্স, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের স্প্যানিশ মহাশক্তি। ফুটবল বোদ্ধাদের চোখে ম্যাচটি ছিল ফাইনালের আগে ‘আরেক ফাইনাল’। ইএ স্পোর্টসের ভবিষ্যদ্বাণী- এবার চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। ফ্রান্সকে ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে হারানোর অভিজ্ঞতা ছিল স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডের। এরপর উয়েফা নেশন্স লীগের সেমিফাইনালেও ফরাসিদের কাঁদায় লা রোহারা। এর আগে জিতেছে ২০১২ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালেও। সেমিফাইনালের আগে লামিন ইয়ামাল তাই বলেছিলেন, ‘স্পেনকে ফ্রান্সের ভয় পাওয়া উচিত। হয় তারা টানা তৃতীয় ফাইনালে খেলবে নতুবা আমরা তাদের টানা তৃতীয়বার হারাবো।’

ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের উভয়ার্ধে একটি করে গোল পায় স্পেন। প্রথমটি পেনাল্টি থেকে এবং পরে চমৎকার এক আক্রমণ গড়ে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা একাদশ অপরিবর্তিত রেখে ডালাসে খেলতে নামে স্পেন।

অন্যদিকে মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দল থেকে দুটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। দেজিরে দুয়ের জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পান ব্র্যাডলি বারকোলা এবং অরিলিয়াঁ চুয়ামেনি ফেরায় বাদ পড়েন মানু কোনো। চোটের কারণে আগের ম্যাচে খেলা হয়নি চুয়ামেনির। ক্ষুরধার নৈপুণ্য দেখিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা ফ্রান্স ডালাসের প্রথমার্ধে ছিল অনেকটাই নিস্প্রভ। চোখধাঁধানো আক্রমণ গড়তে দেখা যায়নি স্পেনকেও। আচমকাই বড় সুযোগ এসে যায় স্পেনের সামনে। ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর বেখেয়ালি তৎপড়তায় ইয়ামালকে লাথি মেরে বসেন লুকাস দিনিয়ে। পেনাল্টি পায় স্পেন।

স্পট কিক থেকে স্পেনকে এগিয়ে নিতে ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়াঁ ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন, নিজের বাঁ দিকে। কিন্তু ওইয়ারসাবালের জোরালো শট গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলসংখ্যা ১৪। এর মধ্য দিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। এক মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে এত গোল এর আগে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার করতে পারেননি। এত দিন রেকর্ডটি ছিল ডেভিড ভিয়ার। ২০০৮-০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল।

৩০তম মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় মাঠে নামেন ম্যাক্সাঁস লাক্রোয়া। ৩৬তম মিনিটে ফরাসি গোলরক্ষকের ভুলে এক আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি হয় স্পেনের সামনে। তবে পোস্টের কাছ থেকে বল বাইরে মারেন ফাবিয়ান রুইজ। প্রথমার্ধে ফরাসিরা চারটি শট নেয়। অনটার্গেটে ছিল না একটিও। স্পেনের পাঁচ শটের একটি ছিল অনটার্গেটে।

হলুদ কার্ড দেখা আদ্রিয়ান রাবিউয়ের বদলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মানু কোনেকে মাঠে নামান ফ্রান্স কোচ। তবে এক গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স দ্বিতীয়ার্ধেও ছন্দহীন। ৫৮ মিনিটে আরেক গোল হজম করে বসে ফরাসিরা। দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু-পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পেদ্রো পোরো। এরপর দারুণ দক্ষতায় মাইক মাইনিয়াঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। টটেনহ্যাম হটস্পারের স্প্যানিয়ার্ড রাইট ব্যাক পেদ্রো পোরোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি প্রথম গোল। ৬৪তম মিনিটে ফ্রান্সের ডিফেন্স ভেঙে বল জালে ঠেলেন লামিন ইয়ামাল। কিন্তু গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ৮৭তম মিনিটে স্প্যানিয়ার্ড গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এমবাপ্পে। আর ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের সঙ্গে মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও আরেকটু এগিয়ে যায় স্পেন। ৩৯ দেখায় ১৯টিতে জয় স্প্যানিয়ার্ডদের। ফ্রান্সের জয় ১৩টি। শেষ ১০ ম্যাচে স্পেনের অষ্টম জয়।

কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিশ্বকাপের পর্দা নামছে আগামী রোববার। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে তারকাদের মেলা বসতে যাচ্ছে সমাপনী অনুষ্ঠানে। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হবে এই অনুষ্ঠান। ৩ দেশের ১৬টি শহরে ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপের সমাপ্তি ও দলগুলোর রোমাঞ্চকর পথচলাকে উদ্যাপন করা হবে এই জমকালো আয়োজনে। ইতালিয়ান গায়িকা লরা পাউসিনি, ‘পুসিক্যাট ডলস’-এর সাবেক কণ্ঠশিল্পী নিকোল শেরজিঙ্গার, বৃটিশ পপ তারকা রবি উইলিয়ামসদের সঙ্গে থাকবেন ইউটিউবার আইশোস্পিড। এ ছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকবেন হলিউড তারকা টম ক্রুজও।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন