আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয়ের প্রেক্ষিতে একটি নির্দিষ্ট দল নানা অপপ্রচারে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাহদী আমিন বলেন, ইতোপূর্বে ওই দলটির নেতাকর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও ভোটার আইডি নিয়েছে। বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে এভাবে অবৈধ অর্থ প্রেরণ বা জান্নাতের টিকিটের প্রলোভনকে ধর্মপ্রাণ দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর বোরখা ও নিকাব বানানোর বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। ইসলামী মূল্যবোধের ধারক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বোরকা ও নিকাব ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অবশ্যই নারীদের আব্রু ও পর্দার ব্যাপারে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ইসলামি সেই পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করে তাহলে সেটি দুঃখজনক।
তিনি বলেন, সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে এনআইডি কার্ড, হজ, ওমরাহ, পাসপোর্ট বা ভিসার ছবি তোলার মতো করেই, মুখমণ্ডলের যে অংশটুকু অনাবৃত রেখে ছবি তুলতে হয়, ভোটার তালিকা অনুযায়ী নারী প্রিসাইডিং বা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও নারী চ্যালেঞ্জকারী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোট প্রদানের আগে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
মাহদী বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি, প্রশাসনের ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একটি অংশের সাথে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক রয়েছে বলে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা মনে করি, এটি অনাকাক্সিক্ষত ও দূরত্ব সৃষ্টির অপচেষ্টা। রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উপর জনগণের মত আমরা আস্থা রাখতে চাই। সুতরাং এই বিভ্রান্তি ছড়ানো নিন্দাজনক এবং যারা এটি করছে তাদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাবো অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য।
তিনি আরও বলেন, যে রাজনৈতিক দলটি মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, আজকে সেই দলটির প্রধানই বলছেন, তিনিও নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। যে দলটি প্রতিটি পদে-পদে নারী বিদ্বেষী আচরণ করছে, তারাই আবার নারীদেরকে ভোট চাওয়ার জন্য ঘরে-ঘরে পাঠাচ্ছে। যে দলটির নামের সঙ্গে ইসলাম আছে, তারা ইসলামকে অপব্যবহার করে জান্নাতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে, ধর্মীয় অপব্যাখ্যায় মানুষকে প্রলুব্ধ করার মাধ্যমে, বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট উক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের প্রকাশিত ইশতেহারেও আমরা সেই দ্বিচারিতার প্রমাণ দেখতে পাই। তারা রাস্তাঘাটে ভারতবিরোধী অবস্থানের কথা প্রকাশ করলেও, ইশতেহারে দেশের এত ছবি থাকা সত্ত্বেও, অসংখ্য ভারতীয় ছবি ব্যবহার করেছে, যা ব্যাখ্যাতীত।
মাহদী আমিন বলেন, তাদের এই দ্বিচারিতা ও প্রতারণার ছায়া দেখা গেছে প্রচারণার ক্ষেত্রেও। একজন অভিনেতা অভিযোগ করেছেন, একটি সামাজিক অভিযোগ গ্রহণকারী অ্যাপের বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের কথা বলে তাকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর। আমরা আরও দেখতে পাচ্ছি, সেই রাজনৈতিক দলটির যিনি প্রধান, তিনি প্রায়ই তুই-তোকারি ও তুমি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি সম্বোধনের স্বীকৃত শিষ্টাচার ও ভাষাজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। এটি পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক।
