১৯৬৮ সাল থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন নাদের খান। ‘মিশন কুমারী’ সিনেমায় তার প্রথম পর্দায় অভিষেক। এরপর অনেক ছবিতে অভিনয় করে গেছেন। করেছেন সিনেমা প্রযোজনা। অভিনয়কে ভালোবেসে জীবনের মূল্যবান সময় চলচ্চিত্রে পার করেছেন। তবে এ সময়ে এসে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন নাদের খান। মা-ভক্ত অভিনেতার বেশির ভাগ সময় এখন কাটে তার দরবার শরীফে। শুধু তাই নয়, এই অভিনেতা-প্রযোজক তার জীবদ্দশায় নিজ হাতে গড়া দরবার শরীফের চত্বরে নিজের শেষ ঠিকানা কবর তৈরি করে রেখেছেন।
হঠাৎ কেন আধ্যাত্মিক জগতে মনোযোগ? প্রশ্ন করতেই তার সহজ সরল উত্তর, মৃত্যুই চিরসত্য আর সবকিছু মিথ্যা। দু’দিনেরই রঙিন দুনিয়ায় সবই স্বার্থের খেলা। নাদের খান বলেন, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে মিরাজ হয় সেটা তো লোক দেখানোর বিষয় নয়। ইবাদত তো গোপনে মালিকের সঙ্গে তার বান্দার। শিল্পী এবং ধর্ম-এ দু’টি বিষয়কেই সাংঘর্ষিক করে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের সমাজে, যা সত্যি দুঃখজনক। আমি তো নিজের কবর তৈরি করে রেখেছি, যেখানে আমার সমাধি হবে। সেই কবর দেখভালও করি আমি।
তিনশত সিনেমায় আপনি নানান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কখনো বড় ভাই আবার কখনো খল চরিত্র। এ সময় এসে কী মনে হয়? প্রাপ্তির পাল্লা কতোটুকু? নাদের খান মানবজমিনকে বলেন, যে ভালোবাসা মানুষের কাছ থেকে পেয়েছি সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর কী লাগে! অনেকটা ভারী কণ্ঠে নাদের খান বলেন, দুঃখের বিষয়টি কি জানেন, জীবনে মূল্যবান সময়গুলো এফডিসিতে যাদের সঙ্গে কাটিয়েছি, আমার এই দুঃসময়ে কেউ খবর নেয় নাই।
হাতেগোনা দুই একজন ব্যতিক্রম। তাদের মধ্যে নায়ক আলমগীর সময় সুযোগ পেলেই আমার খোঁজখবর রাখেন। তিনি আরও বলেন, নায়ক, নায়িকা কিংবা মূল অভিনয়শিল্পী ছাড়া বাকিরা তেমন একটা অর্থ কিংবা খ্যাতি চলচ্চিত্রে পায় না। শিল্পকে ভালোবেসেই তারা কাজ করে যায়। আমি সবাইকে বলবো আর্থিক বিষয়টা নজরে রাখতে। যেমন আমার কথাই যদি বলি, আমার যদি বিত্তশালী পরিবারে জন্ম না হতো তাহলে আজকে যে আমার শারীরিক অবস্থা আমাকেও সহযোগিতার জন্য দ্বারে দ্বারে হয়তো ঘুরতে হতো।
