অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের ভিসা ফি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশিরা

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী এবং পার্টনার ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ভিসা ফি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হওয়ায় দেশটিতে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ অভিবাসনের ব্যয় আরও বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশিসহ হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, দক্ষ অভিবাসী, অস্থায়ী ভিসাধারী এবং তাদের পরিবারের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে অন্য দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসার প্রধান আবেদনকারীর ফি ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ ডলার করা হয়েছে। শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ফি ইতিমধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী ভিসা ফিগুলোর অন্যতম ছিল। নতুন বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অস্থায়ী স্নাতক ভিসার ফিও আবার বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে এ ভিসার আবেদন ফি ৪ হাজার ৬০০ ডলার নির্ধারণ করা হলেও নতুন সিদ্ধান্তে তা বেড়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে পড়াশোনা শেষে অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক স্নাতকদের অতিরিক্ত ১ হাজার ১৫০ ডলার ব্যয় করতে হবে। পার্টনার ভিসার আবেদন ফি ৯ হাজার ৩৬৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার ৭১০ ডলার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভিসা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য এ ব্যয় বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। দক্ষ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্কিলড ইন্ডিপেন্ডেন্ট (সাবক্লাস ১৮৯) ভিসার আবেদন ফি ৪ হাজার ৯১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ১৩৫ ডলার করা হয়েছে। অন্যদিকে সাবক্লাস ৪৮২ ভিসার ফি ৩ হাজার ২১০ ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ১৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর সংকট থাকা সত্ত্বেও আবেদন ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্রিজিং ভিসা বি-এর আবেদন ফি ১৯০ ডলার থেকে বেড়ে ৫৭৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। একইভাবে রেসিডেন্ট রিটার্ন ভিসার ফি ৪৯০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সাবক্লাস ৪৬১ ভিসার ফি ৪৪৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র বিভাগের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভিসা আবেদন ফি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে এবং আবেদনটি যে তারিখে গ্রহণ করা হবে, সেই সময়ের ফিই প্রযোজ্য হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে ফি বৃদ্ধি পেলে আবেদনকারীকে নতুন হার অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

একই সঙ্গে বিভাগটি স্পষ্ট করেছে, প্রকাশিত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সময়সীমা কেবল একটি ধারণা। এটি কোনো আবেদন কখন নিষ্পত্তি হবে তার নিশ্চয়তা দেয় না। এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ড বা পেপ্যালের মাধ্যমে ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সারচার্জ প্রযোজ্য হতে পারে, ফলে আবেদনকারীদের প্রকৃত ব্যয় ঘোষিত ফি-এর চেয়েও বেশি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামান আহমদ বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভিসা ফি বাড়ায় অনেক শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।’ শিক্ষার্থী ও অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ফি কাঠামো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী এবং পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে অস্ট্রেলিয়া উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ অভিবাসনের গন্তব্য হিসেবে আগের তুলনায় আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন