অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক.-এর ‘গুণীজন সংবর্ধনা–২০২৬’। একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, দন্তচিকিৎসক, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর সম্মানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
রোববার বিকেলে সিডনির লাকেম্বায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি জায়েদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিডনির অবার্ন হাসপাতালের মেডিকেল স্টাফ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. আয়াজ চৌধুরী।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, মুখ ও দাঁতের সুস্থতা সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত দন্ত পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, ডায়াবেটিস ও দন্তস্বাস্থ্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে অবহেলা করলে তার প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পড়তে পারে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদক ও ধূমপান ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। নতুন প্রজন্মকে এ ধরনের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। একই সঙ্গে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি এবং রবীন্দ্রসংগীতচর্চার প্রসারে প্রবাসী সমাজকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. আয়াজ চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর বহুমাত্রিক অবদান জাতির জন্য গর্বের। চিকিৎসা, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় তাঁর নিরলস কর্মযজ্ঞ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, প্রবাসে গুণীজনদের সম্মানিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস ও কৃতী মানুষের অবদান তুলে ধরার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুল বারী চৌধুরী, গৌরি চৌধুরী, ফারুক আহমদ, ড. খায়রুল চৌধুরী এবং ড. ফয়সল আহমদ।
এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি সামছুদ্দিন লুলু, মাওলানা ফাজিল বারী, সহ-সাধারণ সম্পাদক এম. ডি. আখলাকুর ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস শুকুর, ক্রীড়া সম্পাদক আহমদ আল কবির এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক দিলু সাজ্জাদ আলী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি এ কে এম হেলাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও হাসান শাহরিয়ার সুমন, প্রকৌশলী রাসেল আহমদ, ট্রেজারার জামান সারোয়ার শিপু, সদস্য গোলাম জাকারিয়া, হাসান আহমদ, মামুনুর রশিদ, সালমান রেজা, কামরান, হাবিব উল্যা, সোহেব আহমদ শাকিলসহ কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি জায়েদুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট ইতিহাস, শিক্ষা, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ জনপদ। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক সিলেট গণভোট সিলেটবাসীর আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। তাই জুলাই মাস সিলেটের মানুষের জন্য গৌরব ও শিকড়ের প্রতীক।
তিনি বলেন, সেই ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করেই জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে সিলেটের ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ এবং দেশের কৃতী ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও সংগঠন এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেওয়া হয়।
