গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফের খবর ভিত্তিহীন: আইনজীবী

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফের খবর ভিত্তিহীন: আইনজীবী

ফন্ট সাইজ:

নোবেলজয়ী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ বা কর-সংক্রান্ত মামলা তুলে নেয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত বিরোধ এখনও হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সুবিধাভোগী, বিশেষ করে নারী সদস্যদের কল্যাণে একটি এন্ডাওমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়। এই তহবিলের অর্থ দরিদ্র সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ঋণসহ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘তহবিলের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে গ্রামীণ টেলিকমের একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় গ্রামীণফোনের প্রায় ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ারে গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল গ্রামীণ টেলিকমের ওপর এবং চুক্তি অনুযায়ী লভ্যাংশ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টিত হওয়ার কথা ছিল।’

আইনজীবীর ভাষ্য, ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণ নিয়মিত আয়কর রিটার্নে ওই লভ্যাংশের তথ্য উল্লেখ করেছে। যেহেতু গ্রামীণফোন উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রেখেছিল, তাই আলাদাভাবে কর পরিশোধের প্রয়োজন ছিল না। এসব রিটার্ন উপ-কর কমিশনার, যুগ্ম কর কমিশনার ও কর কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিতও হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা ইউনিটের উদ্যোগে পূর্ববর্তী চারটি করবর্ষের নথি পুনরায় খোলা হয়। এরপর একজন যুগ্ম কর কমিশনার তার আইনগত এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে একই আয়ের ওপর পুনরায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর আরোপ করেন। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি রিট আবেদন দায়ের করে, যা বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

ব্যারিস্টার মামুন বলেন, ‘কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত কর-সংক্রান্ত বিষয়ে পুনরায় তদন্ত করার ক্ষমতা যুগ্ম কর কমিশনারের নেই। এ কারণে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়েছে এবং মামলাগুলো এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইনের ২৮ ধারায় পরিচালিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান; এগুলোর কোনো ব্যক্তিমালিকানা নেই। ফলে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কর মওকুফ বা মামলা প্রত্যাহারের যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই।’

আইনজীবী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব বিরোধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের রায়ের মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন