শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে মিছিল, ঢাবির ভিসি চত্বরে পুলিশের বাধা
ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল

শিক্ষা ভবন ঘেরাও কর্মসূচি

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে মিছিল, ঢাবির ভিসি চত্বরে পুলিশের বাধা

ফন্ট সাইজ:

চলমান দুর্যোগ, টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা অব্যাহত রাখায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষা ভবন ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় ছাত্রদল নেতারা তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মৌখিক সমর্থন দেন। পরে ফিরে যান আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির কারণে সায়েন্সল্যাব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

মিছিলটি ঢাবির মল চত্বরে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা সেখান থেকে ফেরত যেতে বাধ্য হন।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নেয়াসহ তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে—

১.দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।

‎২.বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩.আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিলেও প্রশাসন আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নেয়নি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালু রাখায় পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে—যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, ‘এত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাতায়াতে আমাদের চরম ভোগান্তি হয়েছে। সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা নেয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ভালো পরীক্ষা দিতে পারেনি। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাবিসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানান।

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।

এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশের ৫৯ জেলায় আজ এইচএসসি ও সমমানের তিন বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং এর আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন জেলার ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত রয়েছে।


জনতা

২ ঘন্টা আগে

শিক্ষামন্ত্রী কাজের চেয়ে কথা একটু বেশিই বলছেন।

মন্তব্য করুন